প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > বড় ভূমিকম্পে কাঁপবে সিলেট

বড় ভূমিকম্পে কাঁপবে সিলেট

সিলেট প্রতিক্ষণ সিলেট শীর্ষ

 

সময়ের ডাক
চার বছরে ৪৭টি ভূমিকম্পের মধ্যে ১১টির উৎসস্থল ছিলো সিলেট!

ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে গত পৌনে চার বছরে ৪৭ বার কেঁপেছে বাংলাদেশ। এসব ভূমিকম্পের উৎসস্থলের ২০টি ছিল দেশের ভেতর, যার ১১টিই সিলেটে। বাকি ২৭টি ছিল সীমান্ত এলাকাসহ আশপাশের দেশগুলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বড় রকমের ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। বারবার ভূমিকম্প হওয়ার অর্থ ফল্ট লাইনগুলো সক্রিয় আছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৭টি ভূমিকম্পের প্রভাবে কেঁপেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ৪ বার, ২০১৯ সালে ৭ বার, ২০২০ সালে ১৫ বার এবং চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ২১ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ২৮ মিনিটে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মিয়ানমারের মানওয়া। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১১৪ কিলোমিটার গভীরে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পৌনে চার বছরের ৪৭টি ভূমিকম্পের মধ্যে ২০টির উৎসস্থল ছিল দেশের ভেতর। এর মধ্যে ১১টিই সিলেটে। বাকিগুলোর উৎসস্থল ছিল নাটোর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, খাগড়াছড়ি ও টেকনাফে। এ ছাড়া আরেকটির উৎসস্থল ছিল বঙ্গোপসাগর। সীমান্তবর্তী এলাকায় হয়েছে সাতটি ভূমিকম্প। এর মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে একটি এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে ছয়টি। এ ছাড়া ভারতের আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ে ১৮টি, মিয়ানমারে ১টি এবং ভুটানে ১টি ভূমিকম্প হয়েছে।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি বলেন, ‘রিখটার স্কেলে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাংলাদেশের সীমানা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও বাংলাদেশের ক্ষতি হতে পারে। ভূমিকম্প যত কাছে হবে, তত বেশি ক্ষতি হবে। দেশের ভেতরে হলে তো ক্ষতি হবেই।’

বিষয়টিকে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সিলেট, আসাম ও মেঘালয়ে ভূমিকম্প হলে আমাদের রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট—এই বেল্টের অনেক ক্ষতি হবে। কারণ, এগুলো বড় বড় শহর ও ঘনবসতিপূর্ণ। আবার মিয়ানমারে হলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। ৫-৬ মাত্রার হলে হয়তো রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের মতো সীমান্তবর্তী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব ঢাকায় চলে আসবে। এতে ঢাকার অনেক ক্ষতি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত দু-তিন বছরে দেশে ভূমিকম্পের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আবার ১০০ বছরের মধ্যে আমাদের এখানে বড় ভূমিকম্প হয়নি তেমন। এটা একটা জিনিস নির্দেশ করে যে এগুলো শক্তি সঞ্চয় করছে। ফলে সামনে বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা আছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (পিডিএমপি) প্রকল্পের সাবেক পরিচালক আবদুল কাইয়ূম বলেন, ‘ছোট ছোট ভূমিকম্প হওয়ার অর্থ হলো এই ফল্ট লাইনগুলো সক্রিয়। সক্রিয়তাই প্রমাণ করে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

আর ফল্ট লাইন সক্রিয় থাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকারি–বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা। যেমন ভূমিকম্প–সহনশীল ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভূমিকম্প মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্গঠন কর্মসূচি হাতে নেওয়া