প্রচ্ছদ > রাজনীতি > সিলেট বিএনপিতে এক পক্ষে উচ্ছ্বাস, অন্য পক্ষে হতাশা

সিলেট বিএনপিতে এক পক্ষে উচ্ছ্বাস, অন্য পক্ষে হতাশা

রাজনীতি সিলেট প্রতিক্ষণ সিলেট শীর্ষ

সময়ের ডাক
মেয়াদোর্ত্তীণ হওয়ার প্রায় তিন বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙ্গে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে সিলেট মহানগর বিএনপির। দীর্ঘদিন পর নেতৃত্বে পরিবর্তন আসলেও ২৯ সদস্যের এই কমিটি নিয়ে অখুশি দলের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ।

তাদের মতে, ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিতে দলের অনেক ত্যাগী নেতাকে বাদ দেয়া হয়েছে। ত্যাগীদের মধ্যে যারা কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন, তারাও যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি। পক্ষান্তরে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় অনেককে পদায়ন করা হয়েছে কমিটিতে।

গত বুধবার বিকেলে কেন্দ্র থেকে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর দলের একাংশের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও অপর অংশে দেখা দিয়েছে হতাশা।

বঞ্চিতদের অভিযোগ, দিন দিন সিলেট বিএনপিকে নিজের মুষ্টিবদ্ধ করে রাখার চেষ্টা করছেন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। কেন্দ্রকে ভুল বুঝিয়ে বিএনপি ছাড়াও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কমিটিও তিনি তার নিজের বলয়ে সীমাবদ্ধ করে রাখার চেষ্টা করছেন। এতে দলের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলছে।

বুধবার সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আবদুল কাইয়ূম জালালী পংকীকে আহ্বায়ক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীকে সদস্য সচিব করে ২৯ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক রাখা হয়েছে ৯ জন, আর বাকি ১৮ জনকে করা হয়েছে সদস্য।

কমিটিতে আহ্বায়কসহ দুই তৃতীয়াংশ নেতা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলয়ের। আর বাকি এক তৃতীয়াংশ পদ পেয়েছে মহানগর বিএনপির অন্য তিনটি বলয়। তাই খন্দকার মুক্তাদির বলয় ছাড়া অন্য বলয়গুলোতে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। পদবঞ্চিতদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

অন্য বলয়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সিলেট বিএনপির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির কেন্দ্রকে ভুল বুঝিয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক ও এডভোকেট শামীম সিদ্দিকীর মতো সদ্য বিলুপ্ত কমিটির দায়িত্বশীল নেতাদের কমিটির বাইরে রেখেছেন। আহ্বায়ক কমিটিতে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নজিবুর রহমান নজিবের ঠাঁই হলেও অন্য কোন অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের রাখা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়েও কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন এডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল আলিম দিপক ও নিহার রঞ্জন দেসহ অনেকে। কিন্তু রাজপথে সক্রিয় থেকেও কমিটিতে ঠাঁই হয়নি সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সহ সভাপতি সালেহ আহমদ খসরুর।

কমিটি ঘোষণার পর ক্ষোভে রাজপথকে বিদায় জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন খসরু। করোনা পরিস্থিতিতে মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কেউ বাসাবন্দি, আর কেউ কেউ বিদেশে থাকলেও মাঠ চষে বেড়িয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। অসুস্থ নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, দলের পক্ষে বছরব্যাপী ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তারপরও কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের তালিকার তলানিতে জায়গা পেয়েছেন তিনি।

এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, স্থানীয়দের মধ্যে যারা কেন্দ্রিয় রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব করছেন তারা হয়তো কেন্দ্রকে ভুল বুঝিয়ে এমন কমিটি এনেছেন। এতে অনেক ত্যাগী নেতা বাদ পড়েছেন। অনেককে কমিটিতে রাখা হলেও সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। এভাবে চললে আগামীতে রাজপথে নামতে নেতাকর্মীরা অনেকবার ভাববে। দিন দিন যেখানে দলকে সম্প্রসারিত করার কথা, সেখানে সংকুচিত করে আনা হচ্ছে।

কমিটির দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে স্থান পেয়েছেন সাবেক সহ সভাপতি, সিটি কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই পদ পেয়েও পুরো কমিটি নিয়ে অসন্তুষ্ট তিনি। কমিটি নিয়ে এক শব্দে তার প্রতিক্রিয়া জানালেন ‘হতাশ’।

নিজ বলয়ের মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটি ‘আটকে’ রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি এসেছে। সবার সহযোগিতায় শক্তিশালী সিলেট মহানগর বিএনপি গঠনই হচ্ছে মুল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আহ্বায়ক কমিটি কাজ করবে। দলের স্বার্থে সবাইকে উচিত কমিটিকে সহযোগিতা করা।