প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > সিলেটে শুক্রবার এলেই বেড়ে যায় হিজড়াদের উৎপাত

সিলেটে শুক্রবার এলেই বেড়ে যায় হিজড়াদের উৎপাত

সিলেট প্রতিক্ষণ সিলেট শীর্ষ

সময়ের ডাক
গেল লকডাউনের সময় কিছুটা থামার পর সিলেটে আবারো বেড়েছে হিজড়াদের চাঁদাবাজি। আজ শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরী ও শহরতলীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিয়ের গাড়ি থেকে একযোগে তাদেরকে চাঁদাবাজি করতে দেখা যায়।

ভোক্তভোগীরা জানান, সিলেটে হিজড়াদের চাঁদাবাজি নৈমিত্তিক ব্যাপার। সড়কের সিগন্যাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি কিংবা বিয়ে বাড়িসহ সবখানেই হিজড়াদের টাকা তোলায় মানুষ একেবারে অতিষ্ট। গেল লকডাউনের সময় বিয়েসাদি কম থাকায় তাদের চাঁদাবাজি কিছুটা কম দেখা যায়। কিন্তু লকডাউন শেষ হতে না হতেই মানুষকে আবার হয়রানী করে তারা চাঁদাবাজি শুরু করেছে।

সাধারণত সিলেটে প্রতি শুক্রবার বিয়েসাদির ঝামেলা বেশি থাকে। আজ শুক্রবার নগরীর যেসব হল কিংবা কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে ছিল, প্রায় প্রতিটি জায়গায় হিজড়াদের চাঁদাবাজি করতে দেখা যায়। এছাড়া শহরতলীর বিভিন্ন পয়েন্টেও গ্রুপ বেধে বিয়ের গাড়ি আটকিয়ে চাঁদাবাজি করেছে হিজড়ারা।

আজ সিলেট নগরীর মেন্দিবাগ পয়েন্ট দিয়ে একটি বিয়ের অনুষ্টানে যাচ্ছিলেন ফটো সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, প্রায় ১০/১৫ জনের হিজড়াদের একটি গ্রুপ তাদের গাড়ি আটকিয়ে ৩ হাজার টাকা দিলে তাদের গাড়ি ছাড় দেয়। কিন্তু ওই গাড়ি দক্ষিণ সুরমার পাঁচ মাইল এলাকায় যাওয়ার পর হিজড়াদের আরেকটি গ্রুপের কবলে পড়তে হয় তাদের। ৫ হাজার টাকা ওই গ্রুপের দাবির পর অনুনয় বিনয় করে ৪ হাজার টাকা দিয়ে ছাড় পান তারা।

এভাবে নগরীরে জেল রোড পয়েন্টেও শুক্রবার কয়েকটি বিয়ের গাড়ি আটকাতে দেখা যায় হিজড়াদের। এসময় বিয়ের গাড়ি থামিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলে এবং বিভিন্ন ভাবে অঙ্গভঙ্গী দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতে দেখা গেছে তাদের (হিজড়াদের)।

নগরীর উপশহরে হিজড়া সদস্য রুমনের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। সে জানায়, সারা সপ্তাহে যে টাকা রুজি হয় তারচেয়ে বেশি রুজি করা যায় শুক্রবার বিয়ের গাড়ি থেকে। আমরা শুক্রবারের জন্য সারা সপ্তাহ অপেক্ষা করতে থাকি।