প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > এক সপ্তাহ ধরে সরকার নেই আফগানিস্তানে

এক সপ্তাহ ধরে সরকার নেই আফগানিস্তানে

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতি ডেস্ক:উগ্রবাদী গোষ্ঠী তালেবানের কাছে কাবুল পতনের পর এক সপ্তাহ ধরে সরকারবিহীন অবস্থায় আফগানিস্তান। গত ১৫ আগস্ট তালেবানরা কাবুল দখল করে নেয়। এরপর দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি দেশ থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকে কার্যত সরকারবিহীন অবস্থায় রয়েছে দেশটি।

দুই দশক আগে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল তালেবানরা। এবার ক্ষমতা দখলের পর এখন পর্যন্ত তারা সরকার গঠন করতে পারেনি। সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রভাবশালী বিভিন্ন আফগান নেতাদের সঙ্গে তালেবান নেতাদের বৈঠকও চলছে। তবে নানা গোত্র আর উপদলে বিভক্ত আফগানিস্তানে তা করতে গিয়েও বেগ পেতে হচ্ছে গোঁড়া এই ইসলামী দলের নেতাদের।

তালেবানবিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত আহমদ মাসুদ তো হুমকিই দিয়েছেন, ক্ষমতার ভাগাভাগি ঠিকমতো না হলে আবার গৃহযুদ্ধ শুরু হবে।

তিন দশক আগে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সৈন্যরা চলে যাওয়ার পর গৃহযুদ্ধের মুখে পড়েছিল আফগানিস্তান। তার মধ্যেই মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে ক্ষমতা দখল করে নিয়েছিল তালেবান। এরপর পাঁচ বছর তালেবান শাসনে ছিল আফগানিস্তানে। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার পর ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ায় আফগানিস্তানে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর অভিযান, তাতে ক্ষমতা হারায় তালেবান। গত দুই দশক কোণঠাসা হয়ে থাকা তালেবান আমেরিকান সৈন্যদের ফিরে যাওয়ার প্রাক্কালে এক মাসের মধ্যে একের পর এক শহর দখল করতে থাকে।

১৫ অগাস্ট তালেবান যোদ্ধারা কাবুলে ঢুকে পড়লে পালিয়ে যান আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি। ফলে বিনাযুদ্ধেই রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। তবে কাবুল বিমানবন্দর এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

দখল সম্পূর্ণ হওয়ার পর নির্বাসিত তালেবান নেতারা কাতার থেকে আফগানিস্তানে আসতে শুরু করে, যার মধ্যে রয়েছেন দলের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার।

কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তালেবানের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন যে তারা সবাইকে নিয়েই সরকার গঠন করতে চান। তবে বিভক্ত আফগানিস্তানে সেই কাজটি বেশ কঠিন বলেই স্পষ্ট; আর সেই কঠিন কাজটিই করা শুরু করেছেন বারদার, যার স্বাক্ষরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল।

আফগানিস্তানের সংবাদ মাধ্যম টলোনিউজ জানিয়েছে, শনিবার তালেবানের রাজনৈতিক শাখার নেতারা বেশ কয়েকজন রাজনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তার মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, জাতীয় পুনর্গঠন কমিশনের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ। তালেবানের পক্ষে বৈঠকে ছিলেন শাহাবুদ্দিন দেলাওয়ার, আবদুস সালাম হানাফি, মোল্লা খায়েরুল্লাহ খয়েরখা, আবদুর রহমান ফিদা।