প্রচ্ছদ > শীর্ষ সংবাদ > ছোটমণি নিবাসে শিশুর মৃত্যু, যা দেখা গেল সিসি ক্যামেরার ফুটেজে

ছোটমণি নিবাসে শিশুর মৃত্যু, যা দেখা গেল সিসি ক্যামেরার ফুটেজে

শীর্ষ সংবাদ সিলেট প্রতিক্ষণ সিলেট শীর্ষ

সময়ের ডাক:সিলেটে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনস্থ নগরীর বাগবাড়িস্থ ছোটমনি নিবাসে মাত্র দুই মাসের শিশুকে নির্মমভাবে খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেই ফুটেজে দেখা যায়, কর্তব্যরত আয়া শিশুটিকে আছাড় দিয়ে ফেলে পরে বালিশচাপা দেন।

সিসি ক্যামেরার এ চিত্র দেখে বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাতে ছোটমণি নিবাস থেকে আয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি এস এম ফরহাদ বলেন, সিসি ক্যামেরার চিত্রে দেখা গেছে, শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আয়াকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন গোয়াইনঘাট পুলিশের মাধ্যমে দুই মাসের ওই শিশুকে ছোটমণি নিবাসে দেওয়া হয়েছিল। এক ভবঘুরে নারীর সন্তান এই শিশুর নাম রাখা হয় নাবিল আহমদ। ছোটমণি নিবাসে ১২ জুন থেকে তাকে রাখা হয় নবজাতক দপ্তরে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন। ২৩ জুলাই সকালে শিশুটিকে তার শয্যায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে উল্লেখ করে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে পুলিশকে জানানো হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অপমৃত্যু মামলার পর্যালোচনা করে পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি দল। মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আজবাহার আলী শেখের নেতৃত্বে এ পর্যালোচনায় হত্যার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হয়। ছোটমণি নিবাসে যে কক্ষে শিশুটি থাকত, সেখানে সিসি ক্যামেরা আছে জেনে পুলিশের একটি দল গতকাল রাত ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে ২২ জুলাই রাতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। তাতে শিশুটিকে বিছানা থেকে আছাড় মেরে ফেলে এরপর বালিশ চাপা দিয়ে রাখার চিত্র পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক নিবাস দাশ দাবি করেন, ঘটনাটি ধামচাপা দেয়ার কোনো চেষ্টা হয়নি। তবে হত্যাকান্ড হিসেবে প্রমাণ হলে অবশ্যই জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা দরকার বলে জানান তিনি।