মৃত্যুকে কবুল করব, তবু সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মেলাব না: সাংসদ মোকাব্বির

 

সময়ের ডাক :: নির্বাচনী এলাকার বাইরে সংবাদ সম্মেলনের পর এবার নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে ‘সিন্ডিকেটের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট-২ আসন (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) থেকে নির্বাচিত গণফোরামের সাংসদ মোকাব্বির খান। তিনি বলেছেন, ‘ওসমানীনগরে সিন্ডিকেটের স্বার্থ হাসিলে সরকারের কোটি কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের কারণে ওসমানীনগরের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে মৃত্যুকে কবুল করব, তবু সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মেলাব না। প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’

শনিবার দুপুরে ওসমানীনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী-২০২১’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ মোকাব্বির এসব কথা বলেন।

এর আগে গত ২৯ মে সাংসদ মোকাব্বির সিলেট নগরীর নবাব রোডের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে বলেছিলেন। লিখিত বক্তৃতায় সাংসদ কারও নামোল্লেখ না করে বলেছিলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা ওসমানীনগর উপজেলায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারও (ইউএনও) যোগসাজশ রয়েছে। সিন্ডিকেটে কারা, বিষয়টি লিখিত বক্তৃতায় সাংসদ খোলাসা করেননি। এ নিয়ে প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি শুধু বলেছিলেন, ‘এত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, নাম নিতেও ভয় পাচ্ছি।’

তারা (সিন্ডিকেট) কথায় কথায় আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু তাদের যদি এলাকার জনগণ অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে, তবে কী পরিণত হবে, তা ভেবে দেখা দরকার।

সাংসদের এই সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা একটি সংবাদ সম্মেলন করে ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ। ১ জুন ওই সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ মোকাব্বিরের বিরুদ্ধে নানা বিষোদ্গার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘এমপি মোকাব্বিরের জামায়াত-শিবিরপ্রেম এলাকায় বেশ আলোচিত। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর জামায়াত-শিবিরের প্রেমে পড়ে “সিন্ডিকেট” বলছেন।’

ওসমানীনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে সভাপতি হিসেবে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তাহমিনা আক্তারের নাম উল্লেখ ছিল। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তা রাজু আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য সুষমা সুলতানা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গয়াস মিয়া, বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া, তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান রব্বানী, দয়ামীর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ, প্রবাসী গোলাম কিবরিয়া, সুফি মিয়া এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি চঞ্চল পাল।

সাংসদ মোকাব্বির বক্তৃতায় বলেন, এই সিন্ডিকেটের জন্য উপজেলা মডেল মসজিদ মহাসড়কের পাশে না হয়ে গ্রামে করা হচ্ছে। এতে ভূমিবাণিজ্য হয়েছে। সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠায় সিন্ডিকেট আবার সক্রিয়। রাস্তা নেই এমন একটা জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। অথচ এলাকার মানুষের মতামত নিয়ে তিনটি স্থান চিহ্নিত করা হলেও সেগুলো সিন্ডিকেটের পছন্দ হয়নি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আজীবন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন উল্লেখ করে সাংসদ আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। আমি ভিন্ন একটি রাজনৈতিক দল করলেও ব্যক্তিগতভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করি বলেই কোনো অন্যায় সহ্য করতে পারি না। তারা (সিন্ডিকেট) কথায় কথায় আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু তাদের যদি এলাকার জনগণ অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে, তবে কী পরিণত হবে, তা ভেবে দেখা দরকার।’