সিলেটে ভূমিকম্প নিয়ে যা বললেন গবেষক

সময়ের ডাক ডেস্ক :: ভূমিকম্প কখন কোথায় হবে, এমন পূর্বাভাস দেয়ার প্রযুক্তি এখনো উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি। তবে কোথাও কম মাত্রার ভূমিকম্প হলে, সেখানে অধিক মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সিলেটে শনিবার (২৯ মে) তুলনামূলক কম মাত্রার চারটি ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে জানায় আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র। আজও সিলেটে একটি অল্প মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শনিবার চারবার নয়, আরও বেশি দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে এবং রোববার ভোরে আরেক দফা ভূমিকম্প হয়।

রোববার (৩০ মে) ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেটে ছোট ছোট ভূমিকম্প ইন্ডিকেট (নির্দেশ) করছে যে, এখানে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। ভূমিকম্প কখন হবে, সেটা ধারণা করা সম্ভব নয়।’

সিলেটের ঝুঁকিটা কী এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিটা হলো- কম মাত্রার বা ছোট ছোট ভূমিকম্পের পরে একটা বড় ভূমিকম্প হয়ে যেতে পারে। এই ঝুঁকি সেখানে রয়েছে। এর মানে এই নয় যে, সেটা ছয় মাস বা এক বছর পর হবে। এটা ২০ বছর পরেও হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা ইন্ডিকেট করছে, ওই জায়গাটা (সিলেট) স্ট্রেচফুল (চাপে আছে)। ওই অঞ্চলটা ভূমিকম্পের জন্য পটেনশিয়াল অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু কম মাত্রার কম্পন প্রায়ই অনুভূত হচ্ছে, এখন থেকে সতর্কতামূলক অবস্থানে যেতে হবে। আশপাশে যেসব ভবন তৈরি করা হচ্ছে, বিষয়গুলো করার সময় এ ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে হবে।’
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যমতে, শনিবার (২৯ মে) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ৫৩ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার, ১১টা ২৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ২ দশমিক ৮ মাত্রার এবং ১টা ৫৮ মিনিটে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার (৩০ মে) সিলেটে খুবই কম মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ২ দশমিক ৮।’

স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প সিলেটবাসী অনুভূত করার দু’টি কারণ উল্লেখ করে মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র ২ দশমিক ৮ মাত্রার মতো খুবই স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প অনুভব করার কারণ হলো অল্প গভীরে ভূমিকম্প হওয়া। এ জন্য মানুষ বুঝতে পারছে। যেখানকার মানুষ ভূমিকম্প বুঝতে পারছে, তাদের খুব কাছে ইপি সেন্টার বা উৎপত্তিস্থল। উৎপত্তিস্থল মানে হলো যেখানে ভূমিকম্প হয় তার মাটির নিচের যে জায়গাটা সেটাকে বলা হয় ফোকাস। সেই ফোকাস থেকে লম্ব বরাবর বা সোজা উপরের ভূমিকে বলা হয় ইপি সেন্টার।’

তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের কোনো পূর্বাভাস দেয়া যায় না। তবে দু’টি বিষয় আছে। একটি হলো বিফোর শক। মানে হলো ছোট ছোট ভূমিকম্প হবে, তারপর একদম মেইন শক (বড় ভূমিকম্প) হবে। দ্বিতীয়টি হলো মেইন শকের (বড় ভূমিকম্প) তারপর আস্তে আস্তে আফটার শক হচ্ছে। অর্থাৎ মূল ভূমিকম্পের চেয়ে ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে।’

আশার বাণী শুনিয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই দু’টি বিষয়ের বাইরে আরেকটা লক্ষণ হলো, ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়ে শক্তি ছেড়ে দিচ্ছে, সেটা ভালো। তখন আর বড় ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। সিলেটের ক্ষেত্রেও ছোট ছোট ভূমিকম্পের মাধ্যমে শক্তি ছেড়ে দিচ্ছে, এমনও হতে পারে। তবে এখন ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

এ বিষয়ে শনিবার ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের এই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলটা একটু ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে আছে। কেননা সেখানে ডাউকি ফল্ট আছে। ছোট ছোট ভূমিকম্প হওয়া মানে সেটা সক্রিয়।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সীমান্তে তিনটা প্লেট আছে। সেগুলো হলো ইউরোশিয়ান প্লেট, ইন্ডিয়ান প্লেট এবং বার্মা মাইক্রো প্লেট। এই তিনটা প্লেটের সংযোগস্থল আমাদের জাতীয় সীমান্ত দিয়ে গেছে। ডাউকি ফল্ট, ভুটান, নেপাল- এই সাইটগুলোতে ভূমিকম্প কয়েক দিন আগেও হয়েছে।’

‘পঞ্চগড়ের কাছে জলপাইগুড়িতে কয়েক দিন আগে বেশ কয়েকটা ভূমিকম্প হয়েছে। সেটার কম্পনও বাংলাদেশে হয়েছে। একইভাবে ভুটানের ভূমিকম্পের কম্পনও বাংলাদেশে হয়েছে। সিলেট অঞ্চলে ডাউকি ফল্ট আছে, এখানেও ভূমিকম্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আবার পূর্বাঞ্চলের সেগিং ফল্টের দিকেও ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আছে। এই প্লেট বাউন্ডারিগুলো সবই আমাদের খুবই কাছে। সে কারণে এভাবে ভূমিকম্পগুলো হয়ে থাকে।’