ভূমিকম্প আতঙ্ক কাটছে না সিলেটে

সময়ের ডাক: শনিবার সিলেট নগরীতে ৪ দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আজ রবিবার ভোর রাতে আরেকদফা ভূমিকম্পের কারণে নগরীর মানুষের মধ্যে কেবল বাড়ছে উদ্যেগ আর আতঙ্ক। এরই মাঝে ঝুঁকি এড়াতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নগরীর সকল ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও ভবন আগামী দশ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।একই সময়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বাসিন্দাদেরও অন্যত্র সরে যেতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে নগরীর মানুষ রয়েছেন অনেকটা আতঙ্কের মধ্যে।

গতকাল শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট থেকে বেলা ২টার মধ্যে ৪ দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয় সিলেট নগরীতে।মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এমন ভূমিকম্পে গতকাল থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন নগরীর মানুষ। এদিকে আজ রবিবার ভোর রাতে নগরীতে আবারো ভূমিকম্প হলে আতঙ্ক সহসাই কাটছে না মানুষের মধ্যে।

ভূমিকম্প প্রসঙ্গে শাহজালার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর ও পরিবেশ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম গতকাল শনিবার সতর্ক সংকেত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের বার্তা বহন করে। তাই আগামী ৩-৪ দিন সিলেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কয়েকদিন সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত। এর মধ্যে বড় ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

এদিকে আজ রবিবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও ভবন পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ মিতালী ম্যানশন, রাজা ম্যানশন ও বন্দরবাজারের সিটি সুপার এবং মধুবন সুপার মার্কেট আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত। এভাবে সিলেট নগরীর সকল ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও ভবনের কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্টদের আগামী ১০ দিন বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হবে। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ বাসাবাড়ির বাসিন্দাদেরও আগামী ১০ দিন অন্যত্র থাকতে হবে।

মেয়রের নির্দেশনার পর এই বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে বৈঠকে বসেছেন মার্কেটগুলোর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা।

প্রসঙ্গত সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভবনগুলো হচ্ছে- জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উত্তর পাশের কালেক্টরেট ভবন-৩, জেলরোডস্থ সমবায় ব্যাংক ভবন, একই এলাকায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাবেক কার্যালয় ভবন, সুরমা মার্কেট, বন্দরবাজারস্থ সিটি সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজারের মিতালী ম্যানশন, দরগাগেইটের হোটেল আজমীর, বন্দরবাজারের মধুবন সুপার মার্কেট, টিলাগড় কালাশীলের মান্নান ভিউ, শেখঘাট শুভেচ্ছা-২২৬ নম্বর ভবন, যতরপুরের নবপুষ্প ২৬/এ বাসা, চৌকিদেখির ৫১/৩ সরকার ভবন, জিন্দাবাজারের রাজাম্যানশন, পুরানলেনের ৪/এ কিবরিয়া লজ, খারপাড়ার মিতালী-৭৪, মির্জাজাঙ্গাল মেঘনা এ-৩৯/২, পাঠানটুলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বাগবাড়ির একতা ৩৭৭/৭ ওয়ারিছ মঞ্জিল, একই এলাকার একতা ৩৭৭/৮ হোসেইন মঞ্জিল, একতা-৩৭৭/৯ শাহনাজ রিয়াজ ভিলা, বনকলাপাড়া নূরানী-১৪, ধোপাদিঘীর দক্ষিণ পাড়ের পৌরবিপণী মার্কেট ও ধোপাদিঘীরপাড়ের পৌর শপিং সেন্টার।