কলার জাপটে বেধড়ক পেটান কাদের মির্জা

সময়ের ডাক ডেস্ক :: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটের মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার বসুরহাট বাজারের রূপালী চত্বরের দলীয় কার্যালয়ের পাশে তাঁর দোকানে এই ঘটনা ঘটে। পরে আহত খিজির হায়াত খানকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

খিজির হায়াত পক্ষের অন্যতম নেতা ফখরুল ইসলাম রাহাত জানান, কাদের মির্জার সাম্প্রতিক রাজনীতির বিরোধিতা করে আসছিলেন খিজির হায়াত খান। এ বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটান কাদের মির্জা ও তাঁর অন্য সহোদর শাহাদাত হোসেন। খিজির হায়াত খান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফখরুল ইসলাম রাহাত আরো অভিযোগ করেন, কাদের মির্জা ও তাঁর ছোট ভাই শাহাদাতের নেতৃত্বে অস্ত্রধারীরা এই হামলা করে। ওই সময় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ ফরহাদ লিংকনকে পৌর কার্যালয়ে নিয়ে আটক রাখা হয়। তিনি দাবি করেন, এ সময় কাদের মির্জা ও শাহাদাতের সন্ত্রাসী বাহিনী বাজারে অস্ত্রের মহড়া দেয়।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান বলেন, ‘বিকেল ৫টার দিকে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে একা অবস্থান করছিলেন। ওই সময় মেয়র কাদের মির্জা অফিসে এসে প্রথমে পাঞ্জাবির কলার জাপটে ধরে আমাকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ভাইসহ শতাধিক সমর্থক রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে লাথি, কিল, ঘুষি মেরে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেন। আমাকে এমনভাবে পেটালেন যেন আমি একজন পকেটমার, চোর। এ সময় আমি পুলিশকে জানালেও তারা আমাকে কোনো সহযোগিতা করেনি।’

এ ব্যাপারে আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি নিজে ফোন ধরেননি। অন্য এক ব্যক্তি ধরে দাবি করেন, কাদের মির্জা কোনো হামলা করেননি।

কাদের মির্জার ভাই শাহাদাত হোসেন জানান, তিনি বা তাঁর ভাই কাদের মির্জা কোনো হামলা করেননি। তবে মেয়রকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলায় বিক্ষুুব্ধ লোকজন খিজির হায়াতের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

ককটেল বিস্ফোরণ-ভাঙচুর : এদিকে খিজির হায়াত খানের ওপর হামলার প্রতিবাদে তাঁর অনুসারী নেতাকর্মীরা গতকাল সন্ধ্যার পর বসুরহাট বাজারের জিরো পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু চত্বরে চেয়ার ভাঙচুর এবং রূপালী চত্বর এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খিজির হায়াত খানের ওপর হামলার পরপরই কাদের মির্জার অনুসারীরা বসুরহাট পৌর এলাকা এবং খিজির হায়াত খানের অনুসারীরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা গেটে অবস্থান নেয়। এ সময় হেলমেট পরা বেশ কিছু ব্যক্তি এসে দোকানপাটে হামলা চালায়। তারা বঙ্গবন্ধু চত্বরে কাদের মির্জার নির্মাণাধীন একটি মঞ্চের সামনে চেয়ার ভাঙচুর করে।

পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।