ফেঞ্চুগঞ্জ ধরে রেখেছে ঐতিহ্যবাহী “টুফাটুফি”

সময়ের ডাক : সু-বিশাল ময়দান। পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে স্বচ্ছ পানির লেক! মাঝখানে হিজল বন। দেশি বিদেশি পাখির কোলাহল। দৃশ্য যেন জাদুকরী কোন ছবি। দিগন্তজোড়া সবুজ ঘাসের বিছানা। তাতেই বসে চলছে ঐতিহ্যবাহী টুফাটুফি (চড়ুইভাতি) আয়োজন।  রান্নাবান্না, গানবাজনা, হৈহল্লায় মেতে উঠে পুরো এলাকা। বলছিলাম সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের হাকালুকি হাওরের কথা। শীত মৌসুমে  হাকালুকি হিজল বনে পুরো শীত মৌসুমজুড়ে চলে হারিয়ে যাওয়া চড়ুইভাতি (সিলেটি আঞ্চলিক নাম টুফাটুফি) শীত মৌসুমে শুকনো হাওরে যানবাহন নিয়ে যাওয়া যায় হিজল বনে। সেখানে পারিবারিক, বন্ধুমহল,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবাই আয়োজন করে  করে টুফাটুফির আয়োজন।

প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জন ও প্রতিষ্ঠানের আয়োজন চোখে পড়ে হিজল বনে। কেউ কেউ প্যান্ডেল করে আয়োজন করেন টুফাটুফির। বর্ষা মৌসুমে যেমন পর্যটকমূখর থাকে উত্তাল হাকালুকি তেমনি শুষ্ক মৌসুমেও ভিন্ন রকম আমেজে পর্যটক টানে হাকালুকি হাওর। শীত মৌসুমে হাওরের বিলগুলোতে মাছ ধরার ধুম পড়ে।

হিজল বনের টিফাটুফির পাশাপাশি এখান থেকে বিশাল বিশাল টাটকা দেশি মাছ কিনে নেন অনেকে। প্রায় রাতেও এখানে দেখা যায় বন্ধু বান্ধবদের বারবিকিউ পার্টি। দিন রাত মুখোর থাকা নাকাল হাওর যেন উদার ভাবেই নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে মেলে ধরে। হিজল বনের টুফাটুফি নিয়ে উল্লাসিত স্থানীয়রাও।

স্থানীয়রা জানান, গ্রাম বাংলা থেকে ঐতিহ্যবাহী টুফাটুফি হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ফেঞ্চুগঞ্জের হাকালুকি হাওর হিজল বন সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। লোকজন আসেন,আনন্দ করেন আমরাও খুশি হয়। স্থানীয়রা জানান, আমরাও সচেতন থাকি যাতে আগত লোকজন কোন অসুবিধায় না পড়েন। আজ পর্যন্ত এখানে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি।