রশিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনা : ডা. অন্তরা লাইফ সাপোর্টে

সমযের ডাক : গতকাল শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুর এলাকায় লন্ডন এক্সপ্রেস ও এনা পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন স্বামী ডা. ইমরান। আর গুরুতর আহত হয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রী ডা. অন্তরা।

তবে ডা. অন্তরা এখনও আশঙ্কামুক্ত নন। তাঁকে রাখা হয়েছে লাইফ সাপোর্টে। অন্তরাকে ঢাকায় নেয়া লাগতে পারে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি সিলেটভিউ-কে জানিয়েছেন ওসমানী হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই জয়নাল আবেদীন।

তিনি বলেন, গতকালের দুর্ঘটনায় আহত ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৫ জনের মধ্যে শুধু ডা. অন্তরার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। ডা. অন্তরাকে ঢাকায় প্রেরণের কথা চলছে। তিনি বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে আছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩১৭৬) ও ঢাকাগামী এনা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৭৩১১) মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন ও হাসপাতালে আরও দুইজন মারা যান। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত  হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- সিলেটের উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক আল মাহমুদ সাদ ইমরান খান (৩৩), এনা পরিবহনের চালক ওসমানীনগর উপজেলার ধরখা গ্রামের মঞ্জুর আলী (৩৮), সুপারভাইজার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিঠাভরা গ্রামের সালমান খান (২৫), হেলপার ধরখা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪), লন্ডন এক্সপ্রেসের চালক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার রাজানিয়াকান্দি পশ্চিম পাড়ার রুহুল আমিন (৫০), ঢাকার ওয়ারি এলাকার বাসিন্দা কলেজছাত্র নাদিম আহমদ সাগর (১৯), সিলেট নগরের আখালিয়া নায়াবাজার এলাকা শাহ কামাল (৪৫) ও ছাতক উপজেলার বাউয়ালী গ্রামের মফিজ আলীর মেয়ে রহিমা খাতুন (৩০)।

এদিকে, ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় তছনছ হয়ে গেছে সিলেটের একটি চিকিৎসক পরিবার। পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন ডা. অন্তরার স্বামী ডা. ইমরান খান রুমেল। অবশ্য বাবা-মায়ের সাথে না থাকায় বেঁচে গেছে তাদের দুই শিশু এনায়া ও ইন্তেজা। ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবার আগে তাদেরকে নানার বাসায় রেখে যান মা-বাবা।

ডা. অন্তরা আক্তার বিসিএস প্রিলি পরীক্ষা দিতে সিলেট থেকে এনা পরিবহনের একটি বাসে ঢাকা যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্বামী ডা. ইমরান।

জানা গেছে, সিলেট নগরীর ফাজিলচিশত এলাকার বাসিন্দা প্রখ্যাত প্যাথলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আমজাদ  হোসেন। তাঁর এক ছেলে রুমেল ও এক মেয়ে নূরী ছিলেন। দুই সন্তানই ডাক্তার। তাদের একমাত্র ছেলে ছিলেন ডা. রুমেল শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। পুত্র শোকে কাতর বাবা আমজাদ হোসেন এখন ব্যস্ত পুত্রবধূ ডা. অন্তরাকে কিভাবে বাঁচানো যায় সেই চেষ্টায়। দুর্ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

রুমেল জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে সিলেট নগরীর উইমেন্স মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন। তাদের দুই কন্যা শিশু রয়েছে। পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে ৫ জন ডাক্তার।