দ্বিগুণ ভোট পেয়ে জয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী

সময়ের ডাক ডেস্ক :: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে বেসরকারিভাবে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন সদ্য সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসীম। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর চেয়ে তিনি ভোট পেয়েছেন প্রায় দ্বিগুণ।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পাহাড়তলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আবছার মিয়া। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, মোট গণনায় জহুরুল আলম জসীম মিষ্টি কুমড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮১৫৫ ভোট। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুল আবছার মিয়া রেডিও প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৬১০ ভোট। ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের মোট ২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি কেন্দ্রে জহুরুল আলম জসীম প্রথম হয়েছেন। অন্যদিকে মাত্র তিনটি কেন্দ্রে প্রথম হয়েছেন নুরুল আবছার মিয়া।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সারা দিন ভোটগ্রহণের আগে ও পরে চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ড ঘিরে চলছিল নানা নাটকীয় কাহিনী। ৯ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বিশ্ব কলোনির পি-ব্লক কোয়াক স্কুল ভোট কেন্দ্রের দখল নিতে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে তুলে নিয়ে যায় পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী জহুরুল আলম জসিমকে।
স্থানীয়ভাবে সাদা মাইক্রোবাসে আসা লোকজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলে ধারণা করা হলেও পুলিশ এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার করেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ৯ নং এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবছার মিয়া এবং বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবছার মিয়ার সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রটির দখল নিতে এলে সংঘর্ষের শুরু হয় বলে জানা গেছে। এ সময় জসিমের অনুসারী হাসান নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

পরে বেলা আড়াইটার দিকে জহুরুল আলম জসিমের অনুসারীরা পাল্টা গুলি চালালে আবছার মিয়ার অনুসারীরা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের দিকে সরে যায়। এরপর বিকাল তিনটা পর্যন্ত কোয়াক স্কুল ভোট কেন্দ্রের পেছনের পাহাড়ে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে থেমে থেমে গুলিবিনিময় হচ্ছিল।