ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

সময়ের ডাক ডেস্ক : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ছিল (১৬ জানুয়ারি) শনিবার। এর আগের দিন শুক্রবার মধ্যরাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নবীগঞ্জ পৌরশহর।

রাত সাড়ে ১২টায় ৪নং ওয়ার্ডের গয়াহরি এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীসহ কয়েকজন আহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শফিক মিয়া চৌধুরী (৩২) নামের এক বিএনপিকর্মীর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়।

তিনি বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। গুরুতর আহত শফিক চৌধুরী চরগাঁও গ্রামের মন্নাফ মিয়া চৌধুরীর ছেলে।

আহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন ওই গ্রামের আরশ মিয়ার ছেলে মিজান মিয়া (২৬), সুজাপুর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে জাহিদ আহমেদ রুবেল (২৬) এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী।

বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, আমি গয়াহরি সেন্টারে এজেন্ট ফরম বুঝিয়ে দিতে যাই। ওই সময় গ্রামের রবিন্দ্র দাশ তার বাড়িতে সংক্রান্তির পিঠা খেতে আমন্ত্রণ জানান। পিঠা খেয়ে সেই বাড়ি থেকে বের হতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেলের ভাই শাহেল চৌধুরী আমার গতিরোধ করে।

এরপর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাহেল সাহেব আসেন এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমার দিকে তেড়ে আসেন রাহেল। আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে চাইলে আমার চাচাতো ভাই শফিক এগিয়ে আসেন। এ সময় ওই অস্ত্রের আঘাতে তার পেট চিরে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসে।

বিপরীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী অভিযোগ করেন, ছাবির আহমদ চৌধুরী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা গয়াহরি গ্রামে কালো টাকা বিলি করছেন বলে খবর আসে। এ ঘটনা আমি প্রশাসনকে জানাই। গ্রামবাসী হাতেনাতে কয়েকজনকে আটকও করে। পরে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসী ও নেতাকর্মীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ করি। ফেরার পথে গয়াহরি গ্রামের ভেতরেই চরগাঁও গ্রামের কয়েকশ লোক আমার গাড়িতে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে। এ সময় আমি ও আমার কয়েকজন কর্মী আহত হয়।