গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন

সম্পদ ও মামলায় এগিয়ে পাপলু, শিক্ষায় রুহেল, শাহিন স্বশিক্ষিত

সময়ের ডাক:আসন্ন গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী হিসবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহেল আহমদ ও ধানের শীষের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল ও সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু।

এ চার প্রার্থী নির্বাচন অফিসে দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সম্পদ ও মামলায় এগিয়ে রয়েছেন সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু। তার নামে রয়েছে লাইসেন্স করা দুটি ২টি আগ্নেয়াস্ত্রও। এর মধ্যে এক লাখ টাকা মূল্যের একটি শর্টগান সিঙ্গেল ব্যারেল ও একটি পিস্তল দেড় লাখ টাকা মূল্যের।

তিনি শিক্ষায় মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে ৪টি চাঁদাবাজি মামলা সহ ১০টি মামলা ছিল। সবকটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের দুটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। তার ব্যবসা- ক্যাবল নেটওয়ার্ক, রড-সিমেন্ট, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, বিটুমিন, পাথর সরবরাহকারী ও ঠিকাদারী, এবং কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে তার।

পাপলুর বাৎসরিক আয় দোকান ভাড়া বাবদ এক লাখ ৫৯ হাজার ৭০৫ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ৫ লাখ ২৪ হাজার ৬৭৫ টাকা। অন্যান্য খাত থেকে আয় এক লাখ ৫১ হাজার ৬৩৩ টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তি বলতে নিজের নামে নগদ আছে ৪ লাখ ৯০ হাজার ৮৯২ টাকা। রয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মাইক্রোবাস।

স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার দেড় লাখ টাকার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী এক লাখ ১০ হাজার ও আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়েছেন। স্থাবর সম্পদে যৌথ মালিকানা থেকে ১১৬ শতক কৃষি ও ৯ দশমিক ৭৬ শতক অকৃষি জমি পেয়েছেন দানপত্রে, ৮ দশমিক ৫৭ শতক ক্রয়সূত্রে এবং উত্তরাধিকার সূত্রে আরো ৩ শতকের মালিক তিনি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৪ টাকা। আর সিসি ও হোম লোন এবং দুই ব্যাংকে ব্যক্তিগত দেনা ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ১২৩ টাকা।

এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোঃ রুহেল আহমদ শিক্ষায় এগিয়ে রয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাস৷ তার হলফনামা সূত্রে আরো জানা যায়, অতীতে তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারী মামলা ছিলো যা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

রুহেল আহমদ তার পেশা ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তার বাৎসরিক আয় ৩লক্ষ টাকা। তার অস্থাবর সম্পত্তি বলতে নগদ ২৮হাজার টাকা।

স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার ৩লক্ষ ২০হাজার টাকার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী এক লক্ষ ৫০হাজার ও আসবাবপত্র ২লক্ষ টাকা মূল্য দেখিয়েছেন।

স্থাবর সম্পদে যৌথ মালিকানা থেকে ৪ শতক কৃষি ও ৪ শতক অকৃষি জমি পেয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন দাখিলকৃত হলফনামায় নিজেকে স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেছেন। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে যা এখনও বিচারাধীন। প্রাইভেট বিনোদন সেন্টার, ভূমি উন্নয়ন ও বিক্রয় সংক্রান্ত এবং কমিশন এজেন্ট ব্যবসা রয়েছে তার।

গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিনের বাৎসরিক আয় ভাড়া বাবত ১লক্ষ ৪১ হাজার ৯শত ৬০ টাকা। ব্যবসা বাবত ৪লক্ষ ২হাজার ২শত ৪টাকা। চাকুরী বাবত ২লক্ষ ৫২ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ ১৪লক্ষ ৫১ হাজার ৮শ ৬১ টাকা রয়েছে।

স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার ৭৫ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী এক লক্ষ ২০হাজার ও আসবাবপত্র ১লক্ষ টাকা মূল্য দেখিয়েছেন।

স্থাবর সম্পদে নিজ নামে ৫০০ শতক, যৌথ মালিকানা থেকে দুই আনা ৬৫০ শতক কৃষি ও ১২৫ শতক অকৃষি জমি পেয়েছেন।

বর্তমান মেয়র মোঃ আমিনুল ইসলাম রাবেল তার হলফনামায় নিজেকে এসএসসি পাশ উল্লেখ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তিনি পেশা বেসরকারি চাকুরী উল্লেখ করেছেন।

তার অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ ৭লক্ষ ৮৪ হাজার ৪শ ১০টাকা উল্লেখ করেছেন। স্থাবর সম্পদে যৌথ মালিকানা থেকে ৩৪ শতক কৃষি ও ৩ শতক অকৃষি, বাড়ি থেকে সাড়ে ৩শতক জমি পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে ৪৭ প্রার্থী পুরুষ কাউন্সিলর ও ৩টি ওয়ার্ডে ১০ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও ৪ মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ২২ হাজার ৯শ ১৬ জন ভোটার রয়েছেন। পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৬শ ৯৪ জন এবং মহিলা ভোটার ১১হাজার ৩শ ১৯ জন।