তেল নিয়ে কাড়াকাড়ি, ব্যাহত ট্রেন উদ্ধার কাজ

সময়ের ডাক ডেস্ক:সবাই ছুটছে, আবালবৃদ্ধবনিতা সকলে। রীতিমত পড়িমরি করে দৌড়ে ছুটছেন সবাই। একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়েছে, ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে- সেদিকে ছুটছে সবাই। তবে ট্রেনটি উদ্ধারে যাচ্ছেন না কেউ। সবাই যাচ্ছেন দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন থেকে পড়তে থাকা তেল সংগ্রহ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দেখা যায় এমন দৃশ্য। স্টেশনের আশপাশের এলাকার মানুষদের মধ্যে রীতিমত উৎসবের আমেজ। যার যা বাসনপত্র আছে তাই নিয়ে আসছেন তেল সংগ্রহে। ধাক্কাধাক্কি, হুড়োহুড়ি করে হাড়ি-বালতি ভর্তি করে তেল নিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার সকাল ১১ টায় সাতগাঁও আউটার সিগন্যাল এলাকায় তেলবাহী এই ট্রেনের ৭টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনটি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ডিজেল ও কেরোসিন নিয়ে সিলেট আসছিলো৷ দুর্ঘটনাকবলিত সাতটি বগির মধ্যে চারটি বগি পুরোপুরি লাইন থেকে সরে যায়। যার ফলে বগিগুলোর হ্যাচকভার খুলে বেরিয়ে আসতে শুরু করে তেল৷ আর এই তেল সংগ্রহের জন্য রীতিমত উৎসব শুরু হয় দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায়৷ সাতগাঁও এলাকাসহ আশেপাশের খারিউজ্জামা, লামাপাড়া, লাহারপুর সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন বালতি, বোতল, জগ, গ্লাসে করে তেল সংগ্রহ করার জন্য আসেন৷

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী সবাই এসেছেন তেল নিতে। দুর্ঘটনাকবলিত ওয়াগন থেকে নির্গত তেল সংগ্রহ করতে রীতিমত খণ্ডযুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন নারী পুরুষ সবাই৷ যে যেভাবে পেরেছেন বোতল বালতি জগ বড় বড় ড্রাম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তেল সংগ্রহে৷

হামিদা বানু (৫৫) নামে স্থানীয় একজন বালতি ভর্তি করে কেরোসিন তেল নিয়ে যা্ছিলেন৷ এই তেল দিয়ে কি করবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই তেল স্থানীয় দোকানে ৫০ টাকা লিটার হিসেবে বিক্রি করবো ৷

ছোট্ট সোহেলও (৯) এসেছিলো বোতল নিয়ে তেল নিতে। সে জানায় তার বাবা মা ভাই বোন সবাই তেল নিতে এসেছে। তাই সেও তেল নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছে৷

জসিম মিয়া (৪০) নামে একজন জানান, সকালে দুর্ঘটনার পর থেকে আমরা পুরো পরিবার মিলে প্রায় ১০০ লিটার তেল সংগ্রহ করেছি৷

এদিকে তেল সংগ্রহে শতশত মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ায় দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি উদ্ধারকাজেও বিঘ্ন ঘটছে৷ তেল নিতে আসা জনগণের জন্য উদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে৷

তেল সংগ্রহে আসা জনতাকে রেলওয়ে পুলিশ নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তাদের থামানো যায়নি৷

দুর্ঘটনাকবলিত চারটি ওয়াগনে প্রায় দেড় লাখ লিটার তেল থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন মেঘনা পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের ডিভিশনাল ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন৷ তিনি বলেন, তেলগুলো আমাদের ছিলো। ঠিক কি পরিমান তেল এখানে ছিলো সেটি আমি নিশ্চিত নই তবে আনুমানিক দেড়লাখ লিটার তেল আছে। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা৷

এদিকে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি উদ্ধারের জন্য দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন কাজ শুরু করেছে৷

রেলওয়ের সিনিয়র উপ সহকারি প্রকৌশলী দুলাল চন্দ্র দাশ বলেন, উদ্ধারপ্রক্রিয়া শেষ করতে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা লাগবে৷