বিশ্বনাথে ১৫৫ জন বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা এম আসকির আলী

সময়ের ডাক: সিলেটের  বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ১৫৫ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে  দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা (সহ সভাপতি), বিএনপি নেতা ও নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর অনুজ এম আসকির আলী ।গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সদ্য সমাপ্ত বিশ্বনাথের দশঘর ইউনিয়ন এর নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান এমাদুদ্দিন খান সহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের ১৫৫ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে এবং প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নিরীহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা কিনা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী । সদ্যসমাপ্ত দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এমাদ উদ্দিন খানের নিশ্চিত বিজয়কে কারচুপির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেবার যে পরিকল্পনা আওয়ামী লীগ করেছিল সেটা বাস্তবায়ন করতে না পেরে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে,তাদের হিংসা ও বিদ্বেষকে চরিতার্থ করবার জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে । কারণ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এমাদ উদ্দিন খান বিপুল ভোটে বিজয়ী লাভ করেছিল কিন্তু তার সেই বিজয়কে কারচুপির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেবার যে ছলচাতুরি আওয়ামী লীগ শুরু করেছিল, সেটা বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়মতান্ত্রিক অবস্থান এবং প্রতিরোধের মুখে আওয়ামী লীগের সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায় এবং ধানের শীষের প্রার্থী এমাদ উদ্দিন খান তার কাক্ষিত বিজয় অর্জন করেন ।ধানের শীষের প্রার্থীর এই কাক্ষিত বিজয়কে ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে বিশ্বনাথের আওয়ামী লীগ দেউলিয়া পরায়ন এবং হিংসাপরায়ণ হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে হয়রানি শুরু করেছে । যা কিনা অত্যন্ত দুঃখ এবং পরিতাপের বিষয় হিসেবে জনগণের মধ্যে পরিগণিত হচ্ছে । এম আসকির আলী তার বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন যে : মামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন করে বি এন পি’র নিবেদিত নেতা কর্মীদেরকে দমানো যাবে না । কারণ বিএনপি দেশ জাতি এবং জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে রাজনীতি করে । তাই দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে, মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে, মানুষের বাকস্বাধীনতার স্বার্থে, জনগণের কল্যাণের স্বার্থে: বিএনপি এবং তার প্রতিটি নেতাকর্মী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনার মানুষদেরকে সাথে নিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে, দেশের পক্ষে লড়াই করে যাবে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে । এতে ভয়-ভীতি দেখিয়ে কোন লাভ হবে না ।বিবৃতিতে তিনি আওয়ামী লীগের ভাইদের উদ্দেশ্যে উল্লেখ করেন যে, আপনারা হিংসা বিদ্বেষ জুলুম-নির্যাতনের এবং নিষ্ঠুরতার পথকে পরিহার করুন ।সুস্থ ধারা এবং গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনার রাজনীতির চর্চা করবার পথে ফিরে আসুন । নিষ্টুরতা হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতির চর্চার সংস্কৃতি কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না । সকল ক্ষমতার মালিক হলেন আল্লাহ ।কার ক্ষমতা কখন আসবে যাবে সেটা সর্বশক্তিমান আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারবেনা । তাই সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চা সকলের জন্যই মঙ্গলজনক । বিশ্বনাথ,ওসমানী নগর এবং বালাগঞ্জের পরিবেশকে অশান্ত করবার জন্য যে ঘৃণ্য অপচেষ্টা চলছে সেটা থেকে আপনাদের সরে আসবার প্রত্যাশা রাখছি । সৌহার্দ্য সম্প্রীতি ও ভাতৃত্ববোধের সমন্বয়ে একটা গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনার রাজনীতি আমাদের সকলের জন্যই মঙ্গলজনক এবং কল্যাণকর, যা কিনা আমাদের আগামী প্রজন্মকে দেশের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণের স্বার্থে রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করতে সহায়তা করবে । এজন্য আপনাদের, আমাদের সকলকেই যত্নশীল হতে হবে । এই অঞ্চলের মাটি ও মানুষের নেতা এম ইলিয়াস আলী, এই অঞ্চলকে একটা সমৃদ্ধি ,শান্তি এবং উন্নয়নের জনপদে গড়ে তুলেছেন । ইলিয়াস আলী কর্তৃক এই শান্তির জনপদ কে আপনারা অশান্ত করবার চেষ্টা করবেন না । রাজনীতিকে রাজনীতির ভাষায় মোকাবেলা করুন । হিংসা-বিদ্বেষের পথকে অবশ্যই পরিহার করুন । জনগণের কল্যাণের স্বার্থে যেহেতু রাজনীতি, তাই জনগণের কল্যাণ সাধিত করবার জন্য, এই অঞ্চলকে শান্তির জনপদে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য আমাদের সকলকেই অগ্রণী এবং সচেষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে । অবিলম্বে বিএনপি’র ১৫৫ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন নিপীড়ন এবং হয়রানি বন্ধ করুন এবং বিশ্বনাথ বিএনপি নেতা আব্দুল হাই সহ গ্রেফতারকৃত সকল বিএনপি নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হোক । বিবৃতিতে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বললেন যে, আপনারা ধৈর্য হারা হবেন না, আপনারা বিচলিত হবেন না । সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন । কারণ আপনারা সত্য এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য, বাংলাদেশের মজলুম জনগোষ্ঠীর কল্যাণের জন্য, অন্যায় অবিচার জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পক্ষে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সংগ্রাম করছেন । তাই আপনারা এই ন্যায় বাদী, সত্যবাদীদের এই সংগ্রাম কখনোই বৃথা যাবেনা । অবশ্যই সত্য এবং ন্যায়ের জয় সুনিশ্চিত ।ইনশাল্লাহ আপনাদের সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জিত হবে । পরম করুনাময় আল্লাহর উপর ভরসা রেখে, বুকে ঈমানী শক্তি নিয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদেরকে শামিল রাখবেন ।আল্লাহ আপনাদের, আমাদের সকলের সহায় হোন ।