জাফলং সীমান্তে শিশুদের দিয়ে বুঙ্গার মাল পাচার, নেপথ্যে দালাল চক্রের বাণিজ্য

সময়ের ডাক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং-বল্লাঘাট সীমান্ত জিরো পয়েন্ট এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতে অসহায় শিশুদের দিয়ে চোরাই পণ্য পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। কিছু টাকার লোভ দেখিয়ে স্থানীয় এলাকার শিশুদের দিয়ে চোরাচালানের মতো এমন জঘন্যতম অপরাধ কান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন ‘বল্লাঘাট পাথর উত্তোলন সরবরাহকারী শ্রমিক বহুমুখী সমবায় সমিতি’র সভাপতি শহীদ মিয়া, মোঃ নুরু মেম্বার ও খালেক মেম্বারসহ একটি দালাল চক্র। শিশুদের মাধ্যমে দিন-রাত পাচার করা হচ্ছে এই চোরাই পণ্য। বিনিময়ে এই দালাল চক্রের দৈনিক লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য হচ্ছে।

জানা গেছে, দীর্ঘ দিন থেকে এই পুলিশ-বিজিবির একটি অবৈধ টাকার লাইনম্যান দালাল চক্রের সভাপতি শহীদ মিয়া, মোঃ নুরু মেম্বার, খালেক মেম্বারসহ একটি সিন্ডিকেট জাফলংয়ের শিশুদের দিয়ে ভারত-বাংলাদেশে রোচাই পথে বুঙ্গার মাল পাচার করে আসছে। তাদের এহেন নেককার জনক কর্মকান্ডের নিন্দা জানিয়েছেন জাফলং ট্যুরিষ্ট পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ওসি রতন শেখ। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোষ্ট করেন।

ওসি রতন শেখের ফেসবুক পোষ্ট পাঠকদের জন্য হুবহু তোলে ধরা হলো ‘ বাংলাদেশ সম্পদ, মটরশুঁটি ভারতে পাচারের দৃশ্য এটি। ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের দিয়ে এই ভয়ানক কাজে লাগানো হয়েছে। জাফলং জিরো পয়েন্ট দিয়ে গভীর রাতের অন্ধকারে উৎসব করে ভারতে বাংলাদেশের মটরশুটি পাচার হচ্ছে। পর্যটকদের ওঠানামার রাস্তা ব্যবহার হচ্ছে রাত্রে পাচার কাজে। স্থানীয় ভাবে জানা যায়, এর নেতৃত্বে আছেন জনৈক নুরু, খালেক, শহীদ গং,,, আটকে সহায়তা করুনঃ’

ওসি রতন শেখের ফেসবুক পোষ্টের নিচে একটি কমেন্ট করছেন গোয়াইনঘাটের সাংবাদিক মিনহাজ উদ্দিন তিনি বলেন ‘‘মহোদয় এগুলো একটু না দেখলে হয়না। করোনাকাল,দীর্ঘদিন কোয়ারী বন্ধ,বিকল্প কর্মসংস্হান নেই। ঘরে ভেতরে থাকা অসহায় মানুষগুলোকে বাচাতে বিএসএফের গুলির মুখে গিয়েও যদি গরীব লেবারগুলো একটু ভাতের জোগান পায় তাতে মন্দ কি। আসলে হয়তো গরীব বা দরিদ্রতা কি জিনিস আপনি অনুভব করেননি। আমার অতীতকে ভূলিনি তাই কাদি এসব অসহায়দের তরে। হলফ করে বলতে পারবো এই মটর বানিজ্যের কোন উৎস হতে আমি একটি কাপ চা ও পান করিনা। তাই বিনীত অনুরোধ করছি তাদেরকে একটু সুযোগ দিন ‘’।

এই দালাল চক্রের অবৈধ চোরাচালান ও শিশুদের দিয়ে বুঙ্গার মাল পাচার বন্ধের দাবি জানিয়ে এলাকার সচেতন মহল বলেন, এই জঘন্যতম অপরাধ বন্ধ না হলে যেকোন সময় ভারতী বিএসএফ অথবা খাসিয়াদের গুলিতে মরতে পারে। শিশুদের কোন দোষ নেই কারণ তারা সিমিত টাকার লোভে পড়ে এমন কাজে বাধ্য হচ্ছে। বিনিময়ে এই দালাল চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে দৈনিক হাজার হাজার টাকা। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।