সিলেটে শুরু হচ্ছে ডেঙ্গু ঠেকানোর অ্যাকশন

সময়ের ডাক: মহামারি করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যে এখন সিলেটের মানুষের দিনযাপন। এর মধ্যেই আরেক আতঙ্ক হিসেবে উঁকি মারার চেষ্টা করছে ডেঙ্গু। ইতিমধ্যে নগরীতে ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশার লার্ভার সন্ধান মিলেছে। ফলে নড়েচড়ে বসেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। ডেঙ্গু ঠেকাতে এডিস মশার বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু করছে তারা।

সিসিক সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল সিলেট নগরীর ২৬নং ওয়ার্ড এলাকায় ক্বিনব্রিজ পার হয়ে রেলস্টেশনমুখী সড়কের পাশে এডিস মশার লার্ভা পায় সিটি করপোরেশন (সিসিক)। একটি স্যানেটারি সামগ্রীর দোকানের সামনে পরিত্যক্ত কমোডের মধ্যে এই লার্ভা পাওয়া যায়। এরপরই এডিসের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয় সিসিক।

সিসিকের স্বাস্থ্য শাখা সূত্রে জানা গেছে, আর কোথাও এডিস মশার লার্ভার অস্তিÍত্ব আছে কিনা, তা সন্ধান করতে আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের সার্ভে (জরিপ)। নগরীর ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭নং ওয়ার্ডে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ওয়ার্ডেই সার্ভের কাজ শুরু হবে। গেল বছরও এসব ওয়ার্ডের কয়েকটি স্থানে এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, ’আমরা কাল থেকে সার্ভে শুরু করছি। কাল ও পরশু সোমবার ঝুঁকিপূর্ণ চারটি ওয়ার্ডে সার্ভে কাজ চলবে। একজন কিটতত্ত্ববিদের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী মিলে এডিসের অস্তিত্ব খোঁজার কাজ করবেন। টায়ার টিউব, স্যানেটারি সামগ্রীর দোকান, নির্মাণাধীন ভবন, পানির ট্যাংক, নার্সারি প্রভৃতির মধ্যে এডিস মশার লার্ভা আছে কিনা দেখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মঙ্গলবার বা বুধবার থেকে নগরীজুড়ে মশকনিধন অভিযান শুরু করবো। বড় আকারেই হবে এ অভিযান। ২৪ রমজানের মধ্যে পুরো সিসিক এলাকা আমরা কাভার করতে চাই। ঈদের বিরতি শেষে আবার কাজ শুরু হবে।’

এদিকে, সিসিকের মশা মারার ওষুধের মজুদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে টেন্ডার তথা দরপত্রের মাধ্যমে ওষুধ কেনা সম্ভব না হওয়ায় ‘স্পট কোটেশন’ (উপস্থিত দরপত্র)-এর মাধ্যমে ওষুধ কেনার চেষ্টা চলছে।

এ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘সিনজেন্টা, অটোক্রপ ও এসিআই এই তিনটা কোম্পানি স্পট কোটেশনে অংশ নিচ্ছে। যারা সর্বনিম্ন দরদাতা হবে, তাদেরকে ওষুধ কেনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। ভ্যাট বাদে প্রায় সাড়ে ১৭ থেকে পৌনে ১৮ লাখ টাকার ওষুধ কেনা হবে।’

তবে বর্তমানে যে মজুদ আছে, তা দিয়ে রমজান মাস চালানো যাবে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।