করোনাঝড়ে বিধ্বস্ত সিলেট, একদিনে ১১৫ জন সনাক্ত

সময়ের ডাক:সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আরও ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার (০১ মে) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

এ নিয়ে দিন শেষের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ি করোনাভাইরাসে সিলেট বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৫ জন। এরমধ্যে ডা. মঈনসহ মারা গেছেন তিনজন আর সুস্থ হয়েছেন দুজন।

ল্যাবে ১৬ জনের আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়।

এর মধ্যে সিলেটের ৮ জন, সুনামগঞ্জের ১ জন এবং হবিগঞ্জে এক চিকিৎসকসহ ৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাছাড়া হবিগঞ্জের লাখাইয়ে ১ জন, নবীগঞ্জে ১ জন, হবিগঞ্জ সদরে ৪ জন। এর মাঝে দু’জন মহিলা ও ৪ জন পুরুষ। তাদের বয়স ২৯ থেকে ৫৭ এর মধ্যে।

এর আগে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে ৯৯ জনের করোনা আক্রান্তের রিপোর্ট জানানো হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)’র কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. আনিসুর রহমান।

তিনি বলেন, গত ২৪ ও ২৫ এপ্রিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে জমা হওয়া ৬৬৭টি নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। এরমধ্যে ৭৮টি রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তবে ওই হিসেবে কোন জেলার কতজন তা এখন বের করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিল মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে সংগ্রহ করা কিছু নমুনা স্যাম্পল সরাসরি ঢাকায় পাঠানো হয়। এরমধ্যে পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে ২১টি। এদের মধ্যে হবিগঞ্জের ১২ জন, সুনামগঞ্জের ৪ জন এবং মৌলভীবাজারের ৫ জন। তবে ৭৮টি পজিটিভ রিপোর্টের জেলাওয়ারী হিসেব আসলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস বাংলাদেশে ধরা পরে গত ৮ মার্চ। আর সিলেট বিভাগে সর্বপ্রথম করোনাভাইরাস ধরা পড়ে গত ৫ এপ্রিল। সিলেট বিভাগের প্রথম রোগী হিসেবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মঈন সনাক্ত হন। এরপর আজ পহেলা মে নতুন আরও ১১৫ নিয়ে সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২২৫ জন।

এর মধ্যে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডা. মঈন ও ২৫ এপ্রিল শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চুনারুঘাটের চা বাগানের এক শিশুর মৃত্যু হয়। আর মৌলভীবাজারের রাজনগরে ‘করোনার উপসর্গ’ নিয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির রিপোর্ট পজিটিভ আসে গত ৫ এপ্রিল। এর আগে ৪ এপ্রিল রাজনগরের টেংরাবাজার ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান এ ব্যক্তি।

অন্যদিকে ২৭ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দুই করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়।