প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > ১৯৮৭ সালের আগে ভারতে জন্মগ্রহণকারীরা সেদেশের নাগরিক

১৯৮৭ সালের আগে ভারতে জন্মগ্রহণকারীরা সেদেশের নাগরিক

আন্তর্জাতিক

সময়ের ডাক ডেস্ক:১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্ম হয়ে থাকলে বা এই সময়ের আগে যদি কারও বাবা-মা এদেশে জন্মগ্রহণ করে থাকেন তাহলে আইন অনুযায়ী তারা উপযুক্ত ভারতীয় নাগরিক এবং নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই।

তবে ভারতের আসামে এই সময় ১৯৭১। এই সময়ের আগে আসামে জন্মগ্রহণকারীরা ভারতীয় নাগরিক বলে বিবেচিত হবেন। শুক্রবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা ও এনডিটিভির।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, নাগরিকত্ব আইনের ২০০৪ সালের সংশোধনী অনুসারে যারা ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন বা যাদের বাবা-মা এই বছরের আগে এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তারা আইন অনুযায়ী ভারতীয় বলেই বিবেচিত হবেন।

অথবা যাদের বাবা মায়ের অন্তত একজন ভারতীয় তারা ভারতীয় নাগরিক হিসাবে বিবেচিত হবেন। তবে আসামের ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকত্ব সনাক্তকরণের সালটি হল ১৯৭১।

নাগরিকত্ব আইনের ২০০৪ সালের সংশোধনী অনুসারে, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জন্মেছেন, যিনি ১ জুলাই ১৯৮৭ বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ সালের আগে জন্মেছেন এবং জন্মের সময় বাবা-মায়ের কেউ একজন ভারতের নাগরিক হলে তারা যথাযথ ভারতীয় নাগরিক বলেই গণ্য হবেন।

১০ ডিসেম্বর ১৯৯২ বা তার পরে কিন্তু ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ এর আগে যারা ভারতের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং যার বাবা মা জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক তারাও ভারতীয়।

কেউ যদি ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাবা-মা উভয়েই যদি ভারতের নাগরিক হন বা বাবা-মায়ের কেউ একজন ভারতের নাগরিক এবং অন্যজন তার জন্মের সময়ে অবৈধ অভিবাসী না হন তবে তারা ভারতীয় নাগরিক।

গত সপ্তাহেই ভারতের সংসদে বিতর্কিত এই আইন পাস হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আসামে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে তিন জন, বেঙ্গালুরুতে আরও দুজন এবং লখনৌতে একজন নিহত হয়েছেন।

নাগরিকত্ব আইনের পাশাপাশি সারা দেশে প্রস্তাবিত এনআরসির বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে প্রতিবাদ।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুসারে, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা যারা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত এদেশে এসেছেন তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং তাদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া হবে।