প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > ‘আমার ভুমি দখল করে নিতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে একটি চক্র’

‘আমার ভুমি দখল করে নিতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে একটি চক্র’

সিলেট প্রতিক্ষণ সিলেট শীর্ষ

সময়ের ডাক: শান্তিময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে অশান্ত করতে উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদের বিরোধীরা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে বলে দাবি করেছেন নারায়ানপুর গ্রামের আঞ্জব আলী আঞ্জু।

তিনি দাবি করেছেন- শাহাবউদ্দিন ও আজির উদ্দিনের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সন্ত্রাসী ও ভুমিখেকো চক্র লাঠিয়াল নিয়োগ করে নিরীহ মানুষের জমি দখল করে পাথর লুটপাটের চেষ্ঠা চালাচ্ছে। এ কারনেই যেসব ঘটনা শামীম আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যরা জানেন না এবং কোনো ভাবে সম্পৃক্তও নয় সেসব ঘটনায় তাদের নাম জড়িয়ে ফায়দা হাসিল করতে চাইছে।

তিনি শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

আঞ্জব আলী আঞ্জু জানান, ‘কোম্পানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি (যিনি ভুমিখেকো হিসেবে এলাকায় পরিচিত) মো. শাহাবুদ্দিন, তার চাচাতো ভাই থানা যুবদলের সভাপতি আলী আকবর, যুবদলের সহ-সভাপতি তাজউদ্দিন ও আবুল হোসেন সহ কয়েকজন ভুমিখেকো চক্র তার জমি দখলে নিতে অপপ্রচারে মেতে উঠেছে। তাদের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমার জমি দখলে নিয়ে দলবেধে পাথর উত্তোলন করে লুটপাট করা। ২০১৬ সালের ২৮শে জানুয়ারি দক্ষিন সুরমার গোপশহর গ্রামের মরহুম আনোয়ার আলীর তিন ছেলে এমদাদুল হক, মিছবাউল হক, লুৎফুল হকের কাছ থেকে মটিয়া টিলার ৩১ নং খতিয়ান থেকে ১ দশমিক ৯২ একর ভুমি ক্রয় করেন পাড়ুয়া গ্রামের বিলাল হোসেন। পরবর্তীতে তিনি ওই ভুমির নামজারী করেন। ওই বছরই বিলাল হোসেনের কাছ থেকে এই জমিটি আমি ক্রয় করি। বর্তমানে ভুমিটি ব্যবহার করে ভোগ দখল করছি। এখন এই ভুমিতে বিলাল আহমদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এই ভুমির মালিকানা দাবি করে ২০১৬ সালে চিকাঢর গ্রামের বিলাল আহমদ সহ তার সহযোগিরা আদালতে মামলা করেন। আমাদের অজ্ঞাতে এক তরফা চলমান মামলা চলতি বছরের ২৩ শে জুন রায় তাদের পক্ষ নেয়। বিষয়টি জানার পর আমার পূর্বের ক্রেতা বিলাল হোসেন জজ আদালতে স্বত্ব আপীল মোকদ্দমা মামলা করেন। এখন মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। সুতরাং কোনো বিচারাধীন মামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মন্তব্য করা উচিত নয়। অথচ আজির উদ্দিন বিচারাধীন মামলা নিয়ে যেভাবে অপপ্রচার চালিয়েছে তা কোনোভাবে সমুচিন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আইনত ভাবেও আমরা এই ভুমি মালিক। আমাদের অজান্তে যে রায় হয়েছে সেটি আমরা জানার পর পক্ষ হয়েছি। অথচ সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ, তার ভাই বিলাল হোসেনসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে। সংবাদ সম্মেলনকারী আজির উদ্দিনের বাড়ি বর্ণি গ্রামে। যে জায়গা নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে সেই জমির দুরত্ব বর্ণি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরে। মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আজির উদ্দিনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শাহাবুদ্দিন, আলী আকবর, তাজউদ্দিনসহ কয়েকজন মিলে একটি সিন্ডিকেট করে জোরপূর্বক ওই ভুমি দখলে নিতে চাইছে। তারা এখন গায়ের জোরে আমার ক্রয় সূত্রের জমিটি দখলে নিতে হামলা চালাতে পারে। এ ব্যাপারে আমি জীবন শঙ্কায় পড়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যাচার করা হয়েছে দাবি করে আঞ্জু বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ যখন ভারতে অবস্থান করছেন তখন তার বিরুদ্ধে একটি সাজানো ঘটনা দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। শামীম আহমদ কখনো কাউকে ধমকই দেন না, অথচ বলা হয়েছে তিনি চাদা চেয়েছেন। এই অভিযোগের পর থেকে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। একজন স্বনামধন্য চেয়ারম্যানের নামে এমন অপপ্রচার এলাকার মানুষ মেনে নিচ্ছে না। শাহাবুদ্দিন, আজিরের নেতৃত্বে ভুমি দখলবাজরা চাইছে এলাকার শান্তিময় পরিবেশ অশান্ত হোক। দাঙ্গা-হাঙামা করে তারা অতীতের ন্যায় মানুষ খুন করবে।’

সংবাদ সম্মেলনকারী আজির উদ্দিন কোম্পানীগঞ্জের দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার বলে অভিহিত করেছেন আঞ্জু।

বলেন, আজির ও সহযোগিরা বর্ণিতে ডাকাতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলে। বহু ডাকাতির ঘটনায় আজির ডাকাতের নাম এসেছে। মানুষ তার ভয়ে থাকে তটস্থ। এই ডাকাত আজির উদ্দিনসহ ডাকাত দল এখন শাহাবুদ্দিন, আলী আকবরের লাঠিয়ালে পরিনত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- রাজু আহমদ, সাজু আহমদ, শাহরিয়ার, রোশন আলী, আশিক আলী, আলমাস আল মামুন, ফখরুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান, সাচ্ছাই আহমদ প্রমুখ।