প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > দক্ষিণ সুরমা তাফসিরুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্টের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

দক্ষিণ সুরমা তাফসিরুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্টের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

সিলেট প্রতিক্ষণ সিলেট শীর্ষ স্পটলাইট

সময়ের ডাক:দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন জালালপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী তাফসিরুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসা সুনামপুর এর সুপারিনটেনডেন্ট ও সেক্রেটারী মাওলানা মোঃ তারীফ উদ্দীন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মোঃতারীফ উদ্দীন ও সহকারী সুপার আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য, কোচিং ব্যাণিজ্য,শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফিসের কয়েক গুন বেশি আদায়, এম এল এম মাল্টিলেভেল মাকেটিং কোম্পানী পরিচালনার মাধ্যমে স্বনাম ধন্য মাদ্রাসাকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছেন। ফলে ঐতিহ্যবাহী তাফসীরুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসা সুনামপর এর সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ায় পাশাপাশি এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সহ সচেতন মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ।সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মোঃ তারীফ উদ্দীন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এই মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্য ও কোচিং বাণিজ্যে লিপ্ত আছে। অর্থের বিনিময়ে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্যদের প্রত্যক্ষ ছাত্রছায়ায় শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি প্রতারনাসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামীরাও অত্র মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে শিক্ষক হিসেবে কর্মরর্ত আছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী বৈরাগীবাজারে হাই-টিচ কোচিং এন্ড কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার নামে একটি কোচিং সেন্টার মাওলানা মোঃ তারীফ উদ্দীন এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সুপারিনটেনডেন্টকে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি উপর মহলের আদেশে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান। কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক প্রায় ৮ মাসের বেতন ভাতা বাকী রয়েছে। এই বেতন ভাতা উশুলের জন্য তার তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের কোচিং বাণিজ্যের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তিনি অবগত নন বলে জানান। এছাড়াও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত দাখিল পরীক্ষার ফরম ফি র তিনগুনের চেয়ে বেশী আদায় করা হচ্ছে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দাখিল পরীক্ষার সরকার নিধারিত ফি ১২০০/- থেকে ১৮০০/- এর মধ্যে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছ নেওয়া হচ্ছে ৫০০০ টাকা যা সরকার নিধার্রিত ফি’র প্রায় তিনগুন। মাওলানা আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত রসিদে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই বাড়তি ফি আদায় করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত ফি তিনগুন দিতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক অভিভাবক ঋন করে, সুদে টাকা এনে শিক্ষার্থীদের ফি,র টাকা দিচ্ছেন। উল্লেখ্য মাওলানা আনিসুর রহমান মাদ্রাসার কাগজে পত্রে একজন অফিস সহকারী। কিন্তু তিনি সহকারী সুপার হিসাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাদরাসার সুপার মাওলানা মোঃ তারীফ উদ্দীনের যোগসাজশে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন । তাফসিরুল কোরআন দাখিল মাদরাসা সুনামপুর এর সুপার মাওলানা মোঃ তারীফ উদ্দীন উপরোক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,মাদ্রাসার উন্নয়নের স্বার্থে এসব টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের অনেক খরচ আছে। সব মিলিয়ে এই টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মাওলানা মোঃ তারীফ উদ্দীন উক্ত প্রতিষ্ঠানের সুপার থাকা কালীন অবস্থায় ইউনিপে টু ইউ নামক দুর্নীতিগ্রস্ত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানীর কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি একজন মাদ্রাসার সুপার হওয়ার সুবাদে স্থানীয় সহজ সরল অনেক লোক উক্ত ইউনিপে টু ইউ নামক প্রতিষ্টানে সম্পৃক্ত হয়।তারা সরল বিশ্বাসে সুপার মাওলানা মোঃ তারীফ উদ্দীনের প্রলোভনে ২১ হাজার টাকা উক্ত প্রতিষ্টানে জমা দিলে পরবর্তীতে ৪২ হাজার টাকা পাবেন বলে আশ্বাসে তাকে টাকা দেন। এমতাবস্থায় মাওলানা তারিফ উদ্দিন ও তার সহযোগি সহকারী শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বেশ কিছু গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে ফেলে। পরবর্তীতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সরকারের অনুমোদন বিহীন ইউনিপে টু ইউ নামক এম এল এম কোম্পানী বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সাথে সাথে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কিছু কুচক্রী মহল গা ঢাকা দেয়। তখন মাওলানা তারিফ উদ্দিনের সহযোগি সহকারী শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম গা ঢাকা দেয় এবং অধ্যবধি পলাতক আছে। কিন্তু সুপার তারিফ উদ্দিন বহাল তবিয়তে আছে। অপরদিকে সুপার মাওলানা মোঃ তারিফ উদ্দিন স্থানীয় রায়বান নতুন জামে মসজিদের ইমামের পদ থেকে বহিস্কার হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে আজ অবদি উক্ত প্রতিষ্টানে সুপার হিসেবে কর্মরত আছেন। তার প্রতিহিংসার কারনে এমপিও ভুক্ত হতে পারেনি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শিক্ষক মাওলানা মিজানুর রহমান। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমানের পরিবার বতর্মানে করুন অবস্থায় দিনকাল কাটাচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক, শিক্ষার্থী সহ সচেতন মহল তাফসিরুল কোরআন দাখিল মাদরাসা সুনামপুর এর সুপারিনটেনডেন্ট ও সেক্রেটারী মাওলানা মোঃ তারীফ উদ্দীন ও তার সহযোগীদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আর্কষণ ও সহযোগীতা কামনা করছেন।