প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > ভারতীয় তীরে বিদ্ধ জকিগঞ্জ : নিঃস্ব হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ

ভারতীয় তীরে বিদ্ধ জকিগঞ্জ : নিঃস্ব হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ

সিলেট প্রতিক্ষণ

সময়ের ডাক ডেস্ক :ভারতের শিলংয়ের তীর নামক জুয়া খেলায় বিদ্ধ হয়েছে ভারতের সীমান্তঘেঁষা জকিগঞ্জ উপজেলা। তীর খেলাকে কেন্দ্র করে এলাকার উঠতি বয়সী যুবকরা বিপথগামী হচ্ছে। নিঃস্ব হচ্ছেন অতিলোভী নিম্ন আয়ের লোকজন। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এ খেলায় জড়িয়ে নিজেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সীমান্ত অঞ্চলে তীর খেলা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভারতীয় সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জের শত শত পরিবারে অশান্তি নেমেছে ‘তীর’ খেলার জন্য। পাশাপাশি এলাকায় বেড়েছে চুরিসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম। তীর খেলার টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে অনেক সময় সংঘর্ষেও রূপ নিয়েছে। যুব সমাজকে বাঁচাতে তীর খেলার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘তীর’ নামক এ জুয়া খেলা প্রতিদিন ৩ বার অনুষ্ঠিত হয় ভারতের শিলংয়ে। সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে শুরু করে যে কোনো পরিমাণ টাকার টিকিট কেনা যায় এ খেলায়। ১০ টাকার টিকিটে জয়ী হলে ৭০০ টাকা পাওয়া যায়। এ জুয়ার বোর্ডে ১০০টি নম্বর থাকে। যে যত খুশি নম্বর ক্রয় করতে পারে।

টিকিট কিনে স্থানীয় এজেন্ট বা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা হয়। প্রতিদিন বিকাল ৫ টায় ফল প্রকাশ করা হয় ওয়েবসাইটে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, যুবকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এ জুয়া খেলার চাহিদা বেশী। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা দিয়ে অনেকে একাধিক নম্বর ক্রয় করেন। এ জুয়া খেলার টিকিট বিক্রি হয় জকিগঞ্জ পৌর এলাকা, খলাছড়া ইউনিয়নের ঈদগাহ বাজার, বিরশ্রী ইউনিয়নের মাসুমবাজার, বরাইরতল, বারহাল ইউনিয়নের শাহবাগ, শাহগলী বাজার, ঘাটের বাজার, কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম, মানিকপুর ইউনিয়নের রতনগঞ্জ, কালিগঞ্জ বাজারসহ আশপাশ বিভিন্ন এলাকায়। রতনগঞ্জ বাজার এলাকায় এ খেলা বেশী বিস্তার করেছে। পুলিশ ধরপাকড় করলেও জুয়া খেলা থামছেনা। অন্য ব্যবসার আড়ালে টিকেট বিক্রি ও লেনদেন মোবাইলের মাধ্যমে হওয়ায় পুলিশও অনেকটা জুয়াড়ীদের কাছে অসহায়। মাঝেমধ্যে গোপন তথ্যে অভিযান চালিয়ে একাধিকজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। গ্রেপ্তারকৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা করানো হলেও সাজার পরিমান কম হওয়ায় জুয়াড়ীরা জেল থেকে বেরিয়ে আবার জুয়া খেলার নেটওয়ার্ক তৈরী করে। অপরদিকে অভিযোগ রয়েছে। আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর কথিত সোর্সরা জুয়াড়িদের কাছ থেকে নিয়মিত বখরা আদায় করে। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে বখরার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মোহাম্মদ আবু নাসের এ প্রতিবেদককে বলেন, তীর খেলার অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেই। জুয়াড়ীদের কাছ থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে কেউ বখরা আদায় করার তথ্য প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তীর নামক জুয়া খেলার লেনদেন মোবাইলের মাধ্যমে হওয়ায় পুলিশকে অপরাধীদের শনাক্ত করতে অনেক কষ্ট হয়।