প্রচ্ছদ > রাজনীতি > যুবলীগ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের দা‌বি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের

যুবলীগ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের দা‌বি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের

রাজনীতি

সময়ের ডাক ডেস্ক:মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনায় মদদ দেয়ার অভিযোগে যুবলীগ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বৃহস্পতিবার রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাবি শাখা সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এ সময় যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাবি শাখা সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানাই। যারা মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্র দখল করে এ অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে তাদের শাস্তি চাই। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

যুবলীগ চেয়ারম্যানের গ্রেফতার দাবি করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনা করার মদদ দেয়ার অপরাধে যুবলীগ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনার সঙ্গে যারা জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। এই ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনা করে সমগ্র মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণার্থে বঙ্গবন্ধুর দেয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র দখল করে অবৈধভাবে জুয়া এবং ব্যবসা পরিচালনা করে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় চাঁদাদাবির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে অপসারণের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি যুবলীগ নেতাদের বিষয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, যুবলীগের এক নেতা অস্ত্র উচিয়ে চলেন। আরেকজন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়।

এরপর গণমাধ্যমে যুবলীগ নেতাদের সংশ্লিষ্টতায় ঢাকার ৬০টি জায়গায় ক্যাসিনো পরিচালনার খবর প্রকাশ হয়। ১৮ নভেম্বর ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস, ওয়ান্ডারার্স এবং গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ মদ ও ৪০ লাখের বেশি নগদ টাকা উদ্ধার করে র‌্যাব। ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে ওই দিনই যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি ইয়ংমেনস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন।

পাশের ওয়ান্ডারার্স থেকেও জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার হয়, এই ক্লাব পরিচালনার নেতৃত্বে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার। এরপর ধানমণ্ডির কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে অভিযান চালিয়েও ক্যাসিনো চালানোর প্রমাণ পায় র‌্যাব, অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয় ক্লাবের সভাপতি কৃষকলীগের সহ-সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে।

এরমধ্যে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি করা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবির পরিচালক লোকমান ভূঁইয়াকে।

দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে। পরে গ্রেফতার করা হয়েছে ঢাকায় ক্যাসিনো সম্রাট যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানকে ‘শুদ্ধি অভিযান’ নাম দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, সন্ত্রাস, চাঁদবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের ভাসানচরে পাঠানো হবে।

ক্যাসিনো ব্যবসায় যুবলীগ নেতাদের মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তলব করা হয়েছে ব্যাংক হিসাব।