প্রচ্ছদ > শীর্ষ সংবাদ > সিলেটের লোকাল ক্যাসিনো নাজিরবাজারের ’লাল’

সিলেটের লোকাল ক্যাসিনো নাজিরবাজারের ’লাল’

শীর্ষ সংবাদ সিলেট প্রতিক্ষণ সিলেট শীর্ষ স্পটলাইট

সময়ের ডাক : ২৩ সেপ্টেম্বর নাজিরবাজারের বহুল আলোচিত ছয় ভাই রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে ৪ জুয়াড়িসহ দক্ষিণ সুরমা থেকে মোট ৩৭ জুয়াড়িকে আটক করে র‌্যাব। আগে খুব কম লোকই জানতেন এই ছয় ভাই রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে। কিন্তু জুয়াড়িদের জন্য এটি দীর্ঘদিন ধরেই তীর্থস্থান। র‌্যাবের হাতে জুয়াড়ি ধরা পড়ার পর আলোচনায় আসে লোকাল ক্যাসিনো হিসেবে খ্যাত ‘ছয় ভাই রেস্টুরেন্ট’। জানা গেছে আলোচিত ছয় ভাই রেস্টুরেন্টের জুয়ার আসরে অতিষ্ট স্থানীয়রা। জুয়াড়িদের বেশামাল আড্ডাবাজি, জুয়ার পাশাপাশি বসে মিনি মদের আসরও। এসব অপকর্ম সহ্য করতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় জনতা। তারা গত বৃহস্পতিবার সিলেট পুলিশ কমিশনারের হাতে শতাধিক এলাকাবাসী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়। এলাকাবাসীরা এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অত্র এলাকার ছয় ভাই রেষ্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী কালিরগাঁও গ্রামের লাল মিয়া ও তার আপন ছোট ভাই ছুনু মিয়ার নেতৃত্বে রেস্টুরেন্টে দিন-রাত তীর খেলা, মদ, গাঁজা ও বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করা হয়। রেষ্টুরেন্টে সামনে রয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা রেস্টুরেন্টের সামন দিয়ে যাওয়াত করে। প্রায় সময় মাদকসেবীরা শিক্ষার্থীদের ওত্যক্ত করে থাকে।

লাল মিয়া একা হাতেই নিয়ন্ত্রণ করেন পুরো জুয়ার বোর্ড। অভিযাগ আছে তিনি সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের নাম ভাঙ্গিয়ে এ অপকর্ম চালিয়ে আসছেন।

এলাকায় লাল মিয়া ও ছুনু মিয়ার নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে। প্রায় সময় এলাকায় ত্রাসে সৃষ্টি করে যাচ্ছে তারা। আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সব অপকর্ম। লাল মিয়া ও ছুনু মিয়াগংদের বিরুদ্ধে অত্র এলাকার মশাহিদ আলী, এমরান ও মামুন প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ রেষ্টুরেন্ট থেকে র‌্যাব-৯ অভিযানে ২৬ জন জুয়াড়িকে আটক করে। অভিযানে ছুনু মিয়াও আটক হন। দুই একদিন বন্ধ থাকলেও আবার সেখানে মদ, জোয়া সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ আবারো চালু হয়ে যায়। এসব অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে ও এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, নাজিরবাজারের জুয়া খেলা আপাতত বন্ধ রয়েছে। শুধু নাজিরবাজার নয় গোটা দক্ষিণ সুরমা এলাকায় যেখানে অপরাধ সেখানে থানা পুলিশ অভিযান চালাবে। এ ব্যাপারে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।