প্রচ্ছদ > রাজনীতি > সিলেটে বিএনপির সমাবেশে সরকার পতনের ঘোষণা– মির্জা ফখরুল

সিলেটে বিএনপির সমাবেশে সরকার পতনের ঘোষণা– মির্জা ফখরুল

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ সিলেট প্রতিক্ষণ

সময়ের ডাক: সিলেট বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে ছিলো নানা আশঙ্কা। শেষের দিকে এসে হঠাৎ করে পুলিশের ধরপাকড়ে ছড়ায় আতঙ্ক। স্মিত হয়ে যাওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন সমাবেশ ঘিরে সরব হচ্ছিলেন তখন সমাবেশে পুলিশের বাধা, মঞ্চ খুলে নিয়ে যাওয়া, ধরপাকড়সহ বিএনপির পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ ছিলো । তবুও সকল বাধা উপেক্ষা করে সিলেটের রেজিস্টারি মাঠেই হবে বিভাগীয় সমাবেশ; এমন ঘোষণার মধ্যদিয়েই সমাবেশের প্রস্তুতি নেয় বিএনপি। সব শেষ ‘শর্তের ভিত্তিতে’ অনুমতি পায় দলটি।

কিন্তু নানা আশঙ্কা থাকলেও সমাবেশস্থল ছিলো লোকে লোকারণ্য। সকাল থেকে নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে সুবিধামত অবস্থান নিয়ে নির্ধারিত সময়েই মিছিল সহকারে জড়ো হতে থাকেন। মুহূর্তেই কানায় কানায় পূর্ণ হয় সমাবেশস্থল। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ‘নতুন ইতিহাস’ সৃষ্টি করে বিএনপি।

সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকা নেতাকর্মীদের এক দাবি এক সুর ‘দেশনেত্রীর মুক্তি চাই, ফরমায়েশি মামলা প্রত্যাহার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান। দুর্নীতি মামলার রায়ে কারান্তরীণ নেত্রীর মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর থেকে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি ছিলো মিছিলের মূল প্রতিপাদ্য। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়া সমাবেশ চলে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীমের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া এ সমাবেশে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখুঁজ ইলিয়াস আলীর সন্ধান দাবি করা হয়। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষণার আহ্বান করা হয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, ‘এখন ঘরে ঘরে ক্যাসিনো। দেশের মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। প্রতিদিন সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ মারা যাচ্ছে। সরকার গ্যাস বিদ্যুৎ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়াচ্ছে। সরকারের সবাই লুটেরা। মেঘা প্রকল্পের নামে মেঘা লুট হচ্ছে। তাই আন্দলনের মাধ্যমে ব্যর্থ এ সরকারকে পতন করতে হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা ২ বছরের বেশি সময় ধরে এদেশে আছে। একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠাতে পারেনি সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্ত করার জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান ফখরুল।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বুলেন, এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না। তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারবেন না। তাই আগে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। পরে খালেদা জিয়ার মুক্তি আর দেশে ফিরবেন তারেক রহমান।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আদালতের উপর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাচ্ছে না। রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে।

এসময় সরকার মদ জুয়ায় আসক্ত উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির বলেছেন, বর্তমান সরকার মাদক-জুয়ায় আসক্ত। ড্রাইভার পিওনকে দিয়ে জুয়ার আসর বসিয়ে দুই একজনকে গ্রেপ্তার করলেই সরকারের ইমেজ বাড়বে না। ইমেজ বাড়াতে হলে অবাদ সুষ্ঠু নির্বাচন দিন।

এদিকে দেশে নেয়ায় বিচার অনুপস্থিত উল্লেখ করে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদির লুনা বলেছেন, দেড় বছরের অধিক সময় ধরে খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী আছেন। বয়স বিবেচনায় তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া সম্ভব হলেও হিংসা ও ষড়যন্ত্রের কারনে তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না।

সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ হক, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন প্রমুখ বক্তব্য রাখছেন।