প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > শাবি শিক্ষার্থীর সাহসিকতায় ধরা পড়ল ছিনতাইকারী

শাবি শিক্ষার্থীর সাহসিকতায় ধরা পড়ল ছিনতাইকারী

সিলেট প্রতিক্ষণ সিলেট শীর্ষ

সময়ের ডাক:দুপুরের তপদাহ। সূর্যের কিরণে যেনো আগুনের ফুল্কি ঝরছে। নগরীর খাসদবীর পয়েন্টে দাঁড়িয়ে সিএনজির অপেক্ষায় ছিলেন ভার্সিটির ছাত্র এনজে বাহারুল হক সুমন।

তার অদুরেই একজন বৃদ্ধ লোকও সিএনজির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। গন্তব্য খাসদবির থেকে আম্বরখানা। ইতোমধ্যে একটি সিএনজি অটো রিকশা ব্রেক করলো। গাড়িটিতে ড্রাইভারসহ ৫জন বসা ছিল।

বৃদ্ধ লোক গাড়িতে উঠতে গেলে ড্রাইভার তাকে না নিয়ে বরং ভার্সিটির ওই ছাত্রকে উঠার জন্য ডাকলো।

তিনি বয়স্ক লোককে যাওয়ার জন্য মিনতি করলেন। কিন্তু ওরা তাকেই উঠতে বলছে বারবার। যাক তিনি উঠেই পড়লেন অটােতে।

গাড়িতে উঠার পর এনজে বাহারুল হক সুমনের ধারণা পালটে গেল ওদের সম্পর্কে। গাড়ি অল্প যেতে না যেতেই চালক অকারণে সজোরে ব্রেক করছেন।

গাড়িতে থাকা যাত্রীবেশী ছিনতাইচক্র তাকে ঘায়েল করার অপচেষ্ঠা করছে। সুমনের পকেট থেকে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্ঠা, তাকে ঘুষি ও মারধর শুরু করেছে।

অটো রিকশাটি হাউজিং এস্টেট দিয়েই আম্বরখানায় যাবে।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিরিবিলি জায়গাতে গেলেই তারা নিজেদের কাজটা সেরে ফেলাযাই হোক, তিনি উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে মাঝপথেই নেমে পড়েন।

পরে আরেকটা সিএনজিতে উঠে আম্বরখানায় চলে আসেন। তখন তীব্র যানজট। প্রথমেই তাদের গাড়ির নাম্বার প্লেইটের ছবি তুলেন সুমন।
পরে তাদের ছবি তোলার চেষ্টা করলে ছিনতাইকারী চক্রের একজন সুমনের গেঞ্জির কলারে ধরে জিজ্ঞেস করছে ছবি তুললাম কেন।

আরেকজন পেছন থেকে তাকে ঘুষি মারলো। তিনি উপায় না দেখে চিৎকার শুরু করেন। এরপর অ্যাকশন। প্রথমে ঘুষিদাতাকে ঘুষি ফিরিয়ে দিলেন। পরে গালিগালাজকারীকে ভালভাবে সাইজ করলেন।

চার সাথী পালিয়ে গেলেও তাদের একজনকে তিনি ভালভাবে পাকড়াও করে রেখেছিলেন।

পরে সুমন শাবির ভাইস চ্যান্সেলর স্যারকে ফোন দিলেন দিয়ে পুরো ঘটনার ইতিবৃত্ত বর্ণনা করলেন।

ভাইস চ্যান্সেলর সাথে সাথে পুলিশ-প্রশাসনকে বিষয়টি শেয়ার করলে ৫-৭ মিনিটের ভিতরেই বেশ ক’জন পুলিশ সদস্যরা ও টহলরত কয়েকটি গাড়ি ভর্তি পুলিশ এসে উপস্থিত হলেন।

পরে পুলিশ ধৃত ছিনতাইকারীকে থানায় নিয়ে গেলেন।

ছিনতাইকারীর কবলে পড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র এনজে বাহারুল হক সুমন বলেন, আমি আমার ভার্সিটির এসিস্ট্যান্ট প্রক্টর আলমগীর কবির স্যার ও আবু হেনা পহিল স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি আরো জানান, এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।