প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী মতছিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি এমপি মোকাব্বির

সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী মতছিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি এমপি মোকাব্বির

সিলেট প্রতিক্ষণ সিলেট শীর্ষ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: আদালতের রায় ঘোষণার প্রায় ৪ বছর ফেরিয়ে গেলেও একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী ফখরুল আহমদ মতছিনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে মতছিন প্রতিনিয়তই অংশগ্রহন করেছেন একাধিক সামাজিত ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে। সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলার দেওকলস উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে মিলনায়তনে পুলিশের উপস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল আহমদ মতছিনের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট-২ আসনের এমপি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোকাব্বির খান।

একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীর মতছিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় এমপি মোকাব্বির খানের অংশগ্রহন নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। থানা পুলিশের উপস্থিতিতে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী স্থানীয় এমপি মোকাব্বির খানকে প্রধান অতিথি করে কিভাবে সভায় সভাপতিত্ব করতে পারে তা নিয়ে পুলিশের দিকে আঙ্গুল তুলছেন সাধারণ জনগণ। শুধু তাই নয়- একজন সাজপ্রাপ্ত আসামী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম মতছিন উপজেলা সদরসহ বিভিন্নস্থানে দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে প্রকাশে অংশগ্র করে গেলে অদৃশ্য কারণে তাকে গ্রেপ্তার করছেনা পুলিশ।

উপজেলা জুড়ে জনশ্রুতি রয়েছে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী ফখরুল আহমদ মতছিন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বলয়ের সাথে সম্পৃক্ত থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন। তার উপর স্থানীয় এমপি ও গনফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খানের সাথেও রয়েছে মতছিনেরর সু-সম্পর্ক। তাই স্থানীয় এমপি মোকাব্বির খান ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ছত্রছায়ায় থাকার কারণে রায় প্রকাশের প্রায় ৪ বছর ফেরিয়ে গেলেও বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ফখরুল ইহমদ মতছিনকে গ্রেপ্তার করছে না।

জানা গেছে, বিশ্বনাথ উপজেলার শাহাজিরগাঁও গ্রামের আওলাদ আলীর পুত্র সেলিম মিয়া বাদী হয়ে ফখরুল ইসলাম মতছিনের বিরুদ্ধে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৬ সালে একটি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন (দায়রা ৪৭৭/২০১৭ইং, বিশ্বনাথ সি.আর মামলা নং ৩৩৬/২০১৬ইং)। এই মামলার বিচারকার্য শেষে গত ১৫ জানুয়ারী রায় প্রদান করেন সিলেটের অতিরিক্ত আদালতের দায়রা জজ (৫ম আদালত) সাবেরা সুলতানা খানম। রায়ে ফখরুল ইসলাম মতছিনকে ১ বছরের সশ্রম কারাদ- ও নালিশী চেকে উল্লেখিত ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা দ-ে দ-িত এবং জরিমানার টাকা আদায় সাপেক্ষে সমুদয় অর্থ বাদিকে প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত।

ওসমানীনগর থানার রঙ্গিঁয়া গ্রামের মৃত শেখ আজহার আলীর পুত্র শেখ মো. আবদুর রউফ বাদী হয়ে ফখরুল ইসলাম মতছিনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১২ মার্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ওসমানীনগর সি.আর ৫২/২০১৭ইং)। এ মামলায় সিলেটের অতিরিক্ত আদালতের যুগ্ম দায়রা জজ বেগম ফারহানা ইয়াছমিন ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট এন.আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় ফখরুল ইসলাম মতছিনকে ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- ও নালিশী চেকে বর্ণিত টাকার দ্বিগুন (৩ লাখ) টাকা জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন।

একই বছর শেখ মো. আবদুর রউফ বাদী হয়ে ফখরুল ইসলাম মতছিনের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার আরেকটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-ওসমানীনগর সি.আর ২৫/২০১৭ইংরেজি)। এ মামলায় সিলেটের ৩য় আদালতের যুগ্ম দায়রা জজ সাহেদুল করিম ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট এন.আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় ফখরুল ইসলাম মতছিনকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- ও নালিশী চেকে বর্ণিত টাকার দ্বিগুন (২ লাখ) টাকা জরিমানা (অর্থদন্ড) করে রায় ঘোষণা করেন। এসব মামলার রায়ে নালিশী ও জরিমানার টাকা আদায়ের পাশাপাশি আসামী ফখরুল ইসলাম মতছিন পলাতক হওয়ায় মতছিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ইস্যু করেন আদালত।

মামালার বাদী সেলিম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, একাধিক সাজাপ্রাপ্ত আসামী হওয়ার পরও ফখরুল ইসলাম মতছিন প্রকাশ্যে পুলিশের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। এছাড়া মতছিনকে গ্রেপ্তার করার দাবিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারী সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বলেও দাবী করেছেন সেলিম মিয়া।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানায় সদ্য যোগদানকারী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম মূসা বলেন, ফখরুল ইসলাম মতছিন সাজাপ্রাপ্ত আসামী সেটা আমার নলেজে নেই। আদালত থেকে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা আছে কিনা তা চেক করছি। আর সাজাপ্রাপ্ত আসামী যদি কেউ থাকে তাকে অবম্যই গ্রেপ্তার করা হবে।

এব্যাপারে সিলেট-২ আসনের এমপি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থানীয় কমিটির সদস্য মোকাব্বির খান বলেন, দেওকলস উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমাকে আমন্ত্রণ করার প্রেক্ষিতে আমি সেখানে গিয়েছি। সেই অনুষ্ঠানে কে সভাপতিত্ব করবে সেটা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। আর প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফখরুল আহমদ মতছিন যে সাজাপ্রাপ্ত আসামী সেটা আমার জানা নেই।