প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > গোলাপগঞ্জে রিকশাচালকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল : মোড় নিচ্ছে অন্য দিকে

গোলাপগঞ্জে রিকশাচালকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল : মোড় নিচ্ছে অন্য দিকে

সিলেট প্রতিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিনিধি:গোলাপগঞ্জে আত্মহত্যায় মৃত্যুবরণকারী রিকশাচালক আল-আমিন’র দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার বেদগঞ্জের মোল্লাগ্রামে আল-আমিনের গ্রামের বাড়িতে জানাজা নামাজ শেষে তাকে দাফন করা হয়। দাফন হলেও আল-আমিনের মৃত্যুকে নিয়ে নাটকীয়তা এখনও চলছে। স্বামীর মরদেহ দাফনের জন্য শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া সাহেনা বেগমকে স্বামী হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আটক আছেন শ্বশুর আরফান আলী ও শাশুড়ি চানতারা বেগমও।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও আল-আমিনের ভগ্নিপতি সুনাম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন। সোমবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার বেদগঞ্জের মোল্লাগ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। আল-আমিনের মৃত্যুর একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো থানায় মামলা দায়ের হয়নি। তবে দু’পরিবারই মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

মুঠোফোনে প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে আল-আমিনের ভগ্নিপতি সুনাম উদ্দিন বলেন, শুনেছি ঘটনার আগের দিন ভ্যানচালক মুমিনসহ আরও কয়েকজন আল-আমিনকে মারধর করেছে। তার দেহে কয়েকটি আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। আল-আমিনের স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আমাদের হেফাজতে রয়েছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আসার পর তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেব। আমরা আল-আমিনের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের বিচার চাই। তবে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আল আমিনদের বাসায় আসেননি, আল আমিনের স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িরাও তখনও সেখানেই ছিলেন।

আল-আমিনের স্ত্রী সাহেনা বেগম বলেন, স্ত্রী হয়ে কিভাবে স্বামীকে হত্যা করব? আমাদের তো সুখের সংসার ছিল। নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল। আল-আমিনের আত্মহত্যার পিছনে ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের রায়গড় গ্রামের কালাই মিয়ার ডাউনের পাশের ভাড়াটিয়া বাসার বাসিন্দা সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ভ্যানচালক মুমিন আহমদ, একই এলাকার শফিক আহমদ ও ঢাকাদক্ষিণ ঠাকুরবাড়ি পুকুরপাড় রিকশা সমিতির সাবেক সভাপতি কালাম আহমদের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের নির্মম অত্যাচারে সে মানসিকভাবে বিব্রত ও বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। ঢাকাদক্ষিণ দুদু মিয়ার কলোনীর বাসিন্দা আল-আমিনের চাচা শ্বশুর জাকির হোসেন বলেন, তাদের আটকে রাখার বিষয়ে আমরা গোলাপগঞ্জের ওসিকে অবগত করেছি।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক জুনেদ আহমদ বলেন, লাশ দাফনের পর সোমবার বিকেলে তাদের থানায় আসার কথা। পূর্বের যে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবিষয়ে তার পরিবারের লোকজন আমাদের জানালে আমরা বিষয়টা দেখতাম। তবে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, লাশ দাফনের পর পরিবারের লোকজন থানায় আসার কথা। এখনও থানায় অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে এক কলেজছাত্রীকে উত্যক্তের অভিযোগে ঢাকাদক্ষিণ ইউপির রায়গড় কালাই মিয়ার ডাউনের পাশের ভাড়াটিয়া বাসার বাসিন্দা সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ভ্যানচালক মুমিন আহমদ ও ৩/৪জন যুবক উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ কাঁচা বাজারে রিকশাচালক আল-আমিনকে মারধর করে। ওই দিন রাত ১০টার দিকে আবার তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক অত্যাচার করে। আহত আল-আমিন রাতেই ঢাকাদক্ষিণ ঠাকুর বাড়ি পুকুর পাড় রিকশা সমিতির সাবেক সভাপতি কালাম আহমদকে জানায়। পরদিন সকালে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে আল-আমিনকে নিয়ে মুমিনের বাসায় যান কালাম। সেখান থেকে নিজ বাসায় ফিরেই কারো সাথে কথা না বলে দরজা বন্ধ করে কড়িকাঠের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগেন আল-আমিন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।