প্রচ্ছদ > শীর্ষ সংবাদ > টুংটাং শব্দে মুখর সিলেটের কামারপট্রি

টুংটাং শব্দে মুখর সিলেটের কামারপট্রি

শীর্ষ সংবাদ সিলেট প্রতিক্ষণ

 

সময়ের ডাক :ঈদুল আজহায় পশু জবেহ করা হয়। পশু জবাইয়ের হাতিয়ার তৈরীতে টুংটাং শব্দে মুখর কামারগলি। নগরীর মদীনা মার্কেট এলাকার কামারগলিতে গিয়ে দেখা ব্যস্ত কামারিরা। দা, বটি, ছুরি ইত্যাদি সব ধরণের ছোট-বড় হাতিয়ার তৈরী করছেন তারা।

ঈদের দিন পশু জবাইয়ের জন্য পছন্দসই ছুরি-চাপাতি-দা কিনতে ক্রেতারা ছুটছেন এ পট্টিতে। সময় না থাকায় কামাররা এখন অগ্রিম বায়না নিচ্ছেন না। বিক্রিও করছেন নগদে। ক্রেতারাও সময় থাকায় দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন পছন্দের ছুরি বা চাপাতি।

বিক্রেতারা জানান, তারা আগে থেকে অনেক জবেহ সামগ্রী তৈরি করে রেখেছিলেন। এখন সেগুলো বিক্রি করছেন। আবার পুরোনো সামগ্রী ধারানোর কাজও করছেন। গত কোরবানি ঈদের তুলনায় এবার তাদের বেচা-বিক্রি বেশি। বিক্রির এ হার আরো বাড়বে। বেচা-বিক্রি আর আগের অর্ডারের মাল তৈরি করতে গিয়ে তাদের রাতে ঘুমানোর ফুসরত মিলছে না।
বাজার ঘুরে জানা যায়, বাজারে লোহার মান ও ওজন ভেদে দামেও পার্থক্য রয়েছে। সেক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে চাপাতি বিক্রি হচ্ছে। আর বটি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ ও ৮০০ টাকা কেজি দরে। বাজারে একেকটা চাপাতি এক কেজি থেকে দেড় কজি পর্যন্ত ওজনের আছে। বটিও প্রায় একই ওজনের পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ছোট ছুরি ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, (পৃষ্ঠা ২ কলাম ৪ দেখুন)

বড় ছুরি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ৭০ থেকে ১২০ টাকা, দা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাজিরবাজরের এক ব্যবসায়ী জানান, সারাবছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। কোনোরকম দিন যায়। এই সময়ের জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকি আমরা। কোরবানির ঈদের আগে দু-একদিন আগে ভালো বেচাকেনা হয়। ওই সময় দামও ভালো পাওয়া যায়। লোহার তৈরি ছোট ছুরি ৬০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জবাই ছুরি মিলছে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকায়ও। এছাড়া বিভিন্ন সাইজের চাপাতি ৬০০-৮০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। দা-বটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ টাকায়।
কাজিরবাজারে ছুরি কিনছিলেন সেলিম আহমদ। তিনি বলেন, এবারই আমি প্রথম কোরবানি দিচ্ছি। একাই একটি ছাগল কোরবানি দিবো। আরো কয়েকদিন গেলে কিনব। এখান থেকেই একটি ছুরি আর একটি চাপাতি কিনলাম। দাম একটু বেশিই মনে হলো। তবে বেশি দর কষাকষি করলাম না। কোরবানির পশু জবেহ দেওয়ার সামগ্রী তাই। কয়টা টাকাই বা বেশি নিবে?
এ পট্টিতে চাপাতি ও ছুরি কিনতে আসা নাহিদ বলেন, ছুরি, চাপাতি ছাড়া কোরবানি দেওয়া অসম্ভব। তাই আমরা কোরবানিদাতারা কামারের দোকানে যাই। আমাদের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এরা জবেহ সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিটা সামগ্রীতে ১ থেকে দেড়শ’ টাকা বেশি।
সিলেটে মসলার বাজারে আগুন!
নন্দিত ডেস্ক
হাতে গুনা আর ক’টা দিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এ ঈদের প্রধান আকর্ষন পশু কুরবানী করা। কুরবানীর গোশত রান্না করার অন্যতম উপকরণ গরম মসলারবাজারে বড্ড উত্তাপ। আগুন দামে বিক্রি হচ্ছে মসলা। মসলার বাজারে কুরবানীর ছোঁয়া লেগেছে। বছরের অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় চাহিদা বাড়ে হলুদ-মরিচ, পেঁয়াজ, আদা-রসুন আর গরম মসলার। ফলে কুরবানী এলেই বেড়ে যায় মসলার দাম।
এই সুযোগটাই নিচ্ছেন পাইকারি ও খুচরা- দ্ইু পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। তবে এবার কৌশলী ব্যবসায়ীরা। ঈদের মাস খানেক আগে থেকেই দাম বাড়িয়ে রেখেছেন নিত্য প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের। রমজানের ঈদের পরে কয়েক দফায় বেড়েছে গরম মসলার দাম। মাত্র দুইমাসের ব্যবধানে কেজি প্রতি গরম মসলার দাম বেড়েছে ৩শ থেকে ৪শ টাকা।
খুচরা ব্যবসায়ীরা মশলার বাজার চড়ে যাওয়ার জন্য পাইকারি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন। আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা দায়ী করেন চট্টগ্রামের এলসি ব্যবসায়ীদের। আর এরই প্রভাব খুচরো বাজারে পড়েছে বলে তাদের দাবি।
বুধবার বিকেলে নগরীর শিবগঞ্জবাজার, মিরাবাজার এবং বন্দরবাজার এলাকার পাইকারি ও খুচরো বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীদের কৌশলে দাম বাড়ানোর তথ্য। কেউ কেউ বলছেন, দু-একটা পণ্যের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে প্রায় সব মশলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দাম বেড়েছে এলাচ-দারুচিনি, জয়ত্রী, জিরা, লবঙ্গ ইত্যাদি গরম মশলার। রমজানে দারুচিনি বিক্রি হয়েছিল পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৩৩০ টাকা। এখন দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪১০ টাকা (পাইকারি), খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকায়।
এলাচি বিক্রি হয়েছিলো প্রতি কেজি ২১০০ টাকায় এখন দাম বেড়ে প্রতিকেজি ২৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এলাচি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকা করে। জিরা বিক্রি হয়েছিলো প্রতিকেজি ২৯০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩১৫ টাকা, খুচরা বিক্রি হচ্ছে কেজি ২৫০ টাকা করে। লবঙ্গ বিক্রি হয়েছিলো কেজি ৭০০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়, খুচরা বিক্রি হচ্ছে কেজি ১০০০ টাকা। পাইকারি বাজারে জয়ত্রী প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছিলো ২২০০ টাকায় এখন দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৪০০ টাকা, খুচরা বাজারে প্রতিগ্রাম ২৬০ টাকা করে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। কিচমিচ, গুলমরিচের দাম বাড়েনি। প্রতিকেজি কিচমিচ ২৫০০টাকা এবং গুলমরিচ ৪০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। কমেছে পেঁয়াজের দাম। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৩৮ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫-৪৮ টাকায়। ভারতীয় আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ছিল ৩২-৩৪ টাকা। বর্তমানে তা ২৮-৩০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আদার দাম বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকায় এখন স্থিতিশীল হয়ে আছে। একইভাবে রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে।
শিবগঞ্জবাজারের খুচরা বিক্রেতা জুবের আহমদ বলেন, ‘আমরা ছোটখাটো ব্যবসায়ী। পাইকারী মার্কেট থিকি যেলা কিনিয়া আনি সামান্য লাভ ধরিয়া আমরা অলা বেছি। দাম বাড়ার কারণ কালীঘাটর ব্যপারীরা কইতে পারবো।’
কালীঘাটের পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, হাতে গোনা কয়েকটি মশলার দাম বেশি বেড়েছে। তাও মাস খানেক আগে। ঈদকে সামনে রেখে কোন মশলার দাম বাড়েনি। আর সেই সুযোগে সব ধরনের মশলার দাম বাড়িয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।
মিরাবাজারের পাইকারি বিক্রেতা বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মসলার দাম বাড়েনি। দুই একটা মশলার দাম বেড়েছে প্রায় মাস খানেক আগে। দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে মোহাম্মদ দৌলা বলেন, মশলা চট্টগ্রাম থেকে সিলেট আসে। এলসি ব্যবসায়ীরা যদি মশলার দাম বাড়ায় তাহলে এর প্রভাব পাইকারি ও খুচরা বাজারে পড়বে। তবে কোরবানির সময় দাম আর বাড়বে না এবং কমারও কোনও সম্ভাবনা নেই।
এদিকে সবজির বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। গত সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০টাকা কমেছে। বেগুন প্রতি কেজি ৫০ টাকা, মুকি প্রতি কেজি ৫০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৪০ টাকা, বরবটি প্রতিকেজি ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, শশা ৫০ টাকা কেজি, কাকরোল প্রতিকেজি ৫০ টাকা, পেঁপে প্রতিকেজি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৪০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৯০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতিকেজি ৬০ টাকা, ‘পুরল’ প্রতি কেজি ৫০ টাকা, ধনিয়া পাতা প্রতিকেজি ১৫০ টাকা, প্রতি কেজি মরিচ ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ৬০ টাকা এবং আলু প্রতিকেজি ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক ‘হাতকরা’র হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা করে।
নগরীর শিবগঞ্জবাজারের সবজি বিক্রেতা আলামিন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে প্রত্যেকটা সবজির দাম কমছে ৫ থিকি ১০ টাকা। ঈদর আগে আর বাড়ব করি মনে অয় না।’