প্রচ্ছদ > জাতীয় > নাব্যতা হারিয়ে মরা গাঙ্গে পরিণত ৫টি নদী

নাব্যতা হারিয়ে মরা গাঙ্গে পরিণত ৫টি নদী

জাতীয়

সময়ের ডাক :নদীতে আর আগের মতো গভীরতা নেই। নেই অপ্রতিরোধ্য ঢেউ আর স্রোত। আর নদীর বুকে পাল তোলা নৌকা তো এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে যাচ্ছে। বলা যায় নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে। আর নদী পারে বসবাসকারী মানুষের জীবন জীবিকায়ও যেন ভাটা পড়ছে দিনদিন। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে পরিবেশ আর প্রকৃতি।

ভারত থেকে বয়ে আসা সিলেটের সাত নদী তাদের জৌলুস হারিয়ে এখন নিজেরা যেনো এক একটি মরা গাঙ্গ। নাব্যতা হারিয়ে নদীর পানি প্রবাহ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে এর বিরুপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশ আর প্রতিবেশের উপর। সিলেটের নদ নদী নিয়ে এমন মন্তব্য করলেন পরিবেশবাদী সংগঠন সেইভ দ্যা হ্যারিটেজের এক কর্মকর্তা।
নদী খনন করে এর গভীরতা না বাড়ালে এর বিরুপ প্রভাব পড়বে সিলেটের প্রকৃতি আর পরিবেশের উপর। এমন মন্তব্য পরিবেশবাদীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারত থেকে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ১২ টি নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে সারি, মনু, ধলাই, পিয়াইন, খোয়াই অন্যতম। এই ১২ টি নদীর ৫ টিতেই ভারত বাঁধ ড্যাম আর ¯øুইস গেইট নির্মাণ করে নদীগুলোর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা সেখানে পানি নিয়ন্ত্রন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিকাজও সম্প্রসারিত করেছে।
২০১২ সালে ভারত সিলেটের জৈন্তাপুর দিয়ে প্রবেশ করা সারি নদীতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে। সারি নদীর ৩০ কিলোমিটার উজানে ডাউকিচুতি গ্রামে লামু উমসারিয়াং নদীর মিলনস্থলে এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবস্থান।
এটি স্থাপনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সারিনদী। এ ছাড়া সিলেটের মনু নদীর উজানে ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাশ শহরের কানচন বাড়ি এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করছে ভারত। তাদের একই রাজ্যের কুলই এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করায় সংকটে পড়েছে হবিগঞ্জের ধলাই নদী।
ভারতের ডাউকি নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করায় ইতোমধ্যে মরে গেছে সিলেটের পিয়াইন নদী। এছাড়া হবিগজ্ঞের ধনু ও সিলেটের ধলাই নদীর উজানে ¯øুইস গেট বসিয়ে নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করায় শুস্ক মৌসুমে নদী দুটি সম্পুর্ণ পানি শুন্য হয়ে পড়ে। ভারতের একটি অনলাইন দৈনিক থেকে জানা গেছে, সারি নদীতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে তারা বছরে ১২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
এ বিষয়ে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, সিলেটের অভিন্ন নদীর উজানে ভারত কর্তৃক বাঁধ নির্মাণের কোন তথ্য তাদের কাছে নেই। দিনে দিনে নদীরগুলোর পানি প্রবাহ ক্ষমতা কমলেও এর কোন সুনির্দিষ্ট কারণও জানেনা পানি উন্নয়ন বোর্ড।
অথচ প্রায় প্রতি বছরই ভারত থেকে বয়ে আসা সিলেটের নদ নদীর পানি প্রবাহ ক্ষমতা কেবল কমছেই। আর নব্যতা হারিয়ে শোকনো মৌসুমে নদীর তলদেশ হচ্ছে ধু-ধু বালুচর এবং বর্ষা মৌসুমে পানি ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে প্লাবিত করছে নদী তীরের সমতল ভূমি।