প্রচ্ছদ > শীর্ষ সংবাদ > যে কারণে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে

যে কারণে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ

সময়ের ডাক ডেস্ক:বরগুনায় স্ত্রীর সামনেই চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে স্বামী রিফাত শরীফকে। সন্ত্রাসীরা জনম্মুখে ধারালো অস্ত্র নিয়ে রিফাতের উপর হামলা করে। এ সময় সঙ্গে থাকা স্ত্রী হামলাকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করলেও শেষমেষ কোন লাভই হয়নি। সন্ত্রাসীরা রিফাতকে কুপিয়ে চলে যায়।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বরগুনার কলেজ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিফাত শরীফ সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের দুলাল শরীফের ছেলে। অভিযুক্তদের মধ্যে নয়ন ও রিফাত ফরাজী নামের দুজনের নাম বলতে পেরেছেন নিহতের বন্ধুরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিফাত শরীফ সকালে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে কলেজে নিয়ে যান। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরো দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়।

রিফাত শরিফকে এলোপাতাড়ি কোপানোর সময় তার স্ত্রী সন্ত্রাসীদের নিবৃত করতে চেষ্টা করেন। একা এত জনের সাথে পেরে উঠছিলেন না আয়েশা। তবুও স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা বুঝে উঠতে পারছিলেন না কি করা উচিত। টিখ সেই মুহূর্তে সন্ত্রাসীরা স্থান ত্যাগ করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রথমে তাঁকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

রিফাত শরীফের বন্ধু মঞ্জুরুল বলেন, আয়েশা সিদ্দিকা বরগুনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। রিফাত আয়েশাকে বিয়ে করায় নয়নের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়। স্ত্রীর নির্বিগ্নে কলেজ যাত্রা নিশ্চিত করতে রিফাত প্রতিদিনই আয়েশাকে কলেজে পৌঁছে দিতেন এবং নিয়ে আসতেন। প্রতিদিনকার মত বুধবার সকালেও আয়েশাকে কলেজে দিয়ে ফেরার পথে হামলার শিকার হন রিফাত শরীফ।

জানা যায়, নয়ন বরগুনা সরকারি কলেজ হোস্টেল সংলগ্ন আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে। দুই মাস আগে রিফাতের সঙ্গে আয়েশার বিয়ে হয়। এরপর থেকে নয়ন আয়শাকে তাঁর সাবেক স্ত্রী দাবি করেন এবং আয়শার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ‘আপত্তিকর পোস্ট’ দেন। এ নিয়ে রিফাতের সঙ্গে নয়নের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।

রিফাতের বুকে, ঘাড়ে ও পিঠে গুরুতর আঘাত থাকায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। গুরুতর হওয়ায় তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হলে দ্রুত তাঁকে অস্ত্রোপচারের জন্য নেওয়া হয় তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে জানিয়েছে পুলিশ।

বরগুনার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মাদ হোসেন বলেন, ‘অভিযুক্তদের ধরতে তাদের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। নয়নকে গ্রেপ্তারে থানা-পুলিশ ও ডিবি সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছে। নয়নের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা আছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’ এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান।