প্রচ্ছদ > মুক্তমত > ছাত্রদের রাস্তায় আন্দোলনে দেখে আনন্দ নয়-লজ্জিত হওয়া চাই!

ছাত্রদের রাস্তায় আন্দোলনে দেখে আনন্দ নয়-লজ্জিত হওয়া চাই!

মুক্তমত

মো.সফিকুল ইসলাম বিক্রমপুরী :: ইদানীং ছাত্রদের রাস্তায় বেরিয়ে আসা প্রতিবাদ মুখর রাজপথ প্রশংসায় সিক্ত। সমাজের প্রতিটি স্তরে অসংগতি,অনাচার, ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও দায়িত্ব হীনতার প্রতিযোগিতা ! এহেন নাজুক অবস্থা, চলমান প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, অবশ্যকীয়। আইন না মানা, আইম অবজ্ঞা, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া সবই শিষ্টাচার বহির্ভূত । নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা আন্দোলন,শিক্ষক -প্রভাষক সুধীজন এর, অনৈতিক, অসামাজিক, কার্যক্রম প্রতিবাদে যখন, ছাত্র সমাজ রাজপথে নেমে আসেন তখন সকলে হাততালি দিচ্ছি,প্রশংসার সকল বানী ব্যবহার করছি ।এহেন পরিস্থিতি চলমান থাকলে,ছোট্টদের চলাফেরা, বাড়ি, গাড়ি, রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানসহ সকল জায়গায় তাদের উত্তেজিত দেখা দিবে। টিনএজরা নিজের যোগ্যতা দেখাবে।বাবা-মা, ভাই বোনসহ বড়দের প্রতি সকল আদব-সম্মানের সকল ধাপগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আবার শিশুরাই সমাজকে বদলাবে,সুন্দর করবে-তবে ভয় মুক্ত নয় ! বাঘের হিংস্রতা শিকারের উপরে শিকার ধরতে দৌড়কালে পথ ও পথিক সকলেই কেঁপে উঠবে। তাই শিশু আন্দোলন শত বছরের অসংগতি শোধরে দিলেও সমাজের সম্মুখে শত বছরের ভয় ! যেখানে শিশুকালে শিশুগন শিক্ষক হতে আদব শিখবেন। সেখানে শিক্ষক এর বিচার বা বিচারের দাবি করবেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়ে যাবেন -সে শিশুকে দাবিয়ে রাখা যাবে না !  ঘরে দমক দিয়ে রাখা যাবে না। সে রাতে বাসায় ফিরতে দেরি হলে কোন জবাব পাবেন না ; রাত জেগে থাকলে শাসন চলবে না। সময় মত ঘুম না ভাঙ্গলে ডাকা যাবে না। বাড়ি হতে বের হতে কোথায় যাচ্ছে – জানতে চাওয়া যাবে না ( যদি শক্ত গার্জিয়ান না থাকে) ।

মিছিলে যাবে, পার্টিত যাবে, শিশুকালেই সে অনেক ধাপ এগিয়ে যাবে স্বাধীন জীবন যাপনে। ফলে সমাজ/দেশ নতুন সংকটে পড়বে। এরকম পরিস্থিতি মোকাবেলা আমাদের সাবধানে এগোতে হবে। এবং খতিয়ে দেখতে হবে আজ এই অবস্থার জন্য দায়ী কে? আসামীর উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায়  শাস্তির দাবিতে রাজপথ অবরোধ হয় ! আলোচিত মামলার বিচার কার্য যথাযথ হলে ছাত্র রাস্তায় নামবে না। গুরুতর অপরাধ করে যখন আসামী দ্রুত গ্রেফতার হয় না-তখন ছাত্র সমাজ রাজপথে নামে। আসামী দ্রুত গেরেফতার করলে ছাত্র সমাজ রাজপথে নামবে না। নারী নির্যাতন হলে নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না দেখে ছাত্র সমাজ রাজপথে নামে -অপরাধী যেই হোক যথাযথ ব্যবস্থা নিলে ছাত্র সমাজ রাজপথে নামবে না।

স্বাভাবিক রোড দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু হলে আন্দোলন হয় না।চালকের আসনে বসা মানুষটি যখন অমানুষিক আচরণ করে প্রাণ কেড়ে নেয়, তখন শিশু গর্জে উঠে। সেক্ষেত্র চালকের বিরুদ্ধে যথা ব্যবস্থা নিলে শিশু রাস্তায় নামে না। এমনিভাবে সকল বিষয় চিহ্নিত করে সঠিক ব্যবস্থা নিলে ছেলে-মেয়ে/ ছাত্র-ছাত্রীদের রাজপথে নামতে হবে না। চলমান সমাজ মান্যতা আপন গতিতে চলবে। নাগরিক অধিকারের বড় একটি অধিকার চাকরি পাওয়– সে দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই পালন করতে হবে।কোটা রাষ্ট্রের দেয়া বিশেষ সম্মান যা উপযোক্ত ব্যাক্তির যথার্থ পাওনা। এতে সকল নাগরিক সম্মানিত হয়।

কোটার মাধ্যমে জাতীয় বিড় ও দুস্থ দের উপযুক্ত পাওনা দিবার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালকদের ভাবতে হবে মোট কর্ম সক্ষম
জনগনই আমাদের সম্পদ। এই মানব সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলেই রাষ্ট্র লাভবান হবে। পরিবারে যেমন সকলে কাজ করলে আয় হয়, কোন প্রকার ঋন থাকে না। আবার যে পরিবারে বেকার, অসুস্থ ও রোগী থাকে সে পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখতে পায় না,। ঋন এবং অর্থনৈতিক চাপে থাকে। তেমনি রাষ্ট্রের জনগণকে সরকারি কিংবা বেসরকারি কাজে লাগাতে হবে রাষ্ট্রের স্বার্থে। আবার কখনো ভর্তুকি দিয়ে হলেও কৃষি কাজে জনগণকে আগ্রহী করতে হবে ।কৃষি কাজে লাভ দেখলে অবশ্যই জনগন কৃষি কাজে আগ্রহী হবে।বেকার সমস্যা সমাধানে সরকারি/বেসরকারি খাতে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। বিদেশে জনশক্তি পাঠাতে সকল প্রকার কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যাতে করে দেশের জনগন অল্প খরচে কর্মের নিমিত্তে বিদেশ মুখী হতে পারেন।

জনগণের সুবিধাগুলি চিহ্নিত করতে হবে এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি সেক্টরকে নিজের অঙ্গ মনে করতে হবে। দেহের যে কোন একটি অঙ্গের সমস্যা হলে যেমন ঘরে বসে না থেকে হাসপাতালে থাকি তেমনি একটি সেক্টরে যদি সমস্যা পরিলক্ষিত হয় তাৎক্ষনিক তাহা সমাধান করতে হবে রাষ্ট্রকে । রাষ্ট্র যেখানে যন্ত্র, রাষ্ট্র পরিচালক সেখানে মেকানিক। একমাত্র মেকানিকই ইঞ্জিনের রোগ নির্ণয় করতে পারেন।রাষ্ট্র পরিচালক অসংগতি দেখে ব্যবস্থা নিবেন। তবেই ছাত্র রাষ্ট্রের অনুগত হবে।যখন শিক্ষক নিজ কর্তব্য পালন করবেন সঠিকভাবে তখন ছাত্র শিক্ষকের সঠিক সম্মান করবে ।

ভাল শিক্ষকের ছাত্র ভাল, বৃক্ষ দেখে ফল, ফল দেখে বৃক্ষের নাম বলা যায়।তাই ছাত্রদের রাস্তায় আন্দোলনে দেখে আনন্দ নয়–লজ্জিত হওয়া চাই।
এবং এহেন পরিস্থিতি পুনঃ আবৃত্তি না হয় সে দিকে কড়া নজর রাখা দরকার। এরকম পরিস্থিতিতে সুযোগ সন্ধ্যানীগন যে গেম খেলতে মগ্ন হন তাহা কারোই কাম্য নয়।

একটি শিশু তার পরিবার ও রাষ্ট্রের সম্পদ, তাকে রক্ষা করা সকল নাগরিকের কর্তব্য। প্রতিটি শিশুকে যেমন প্রাণে বাঁচতে হবে তেমনি তাহার প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে পরিবার ও রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাদেরকে ভাবতে হবে আমাদের স্বার্থ কোথায় ?