প্রচ্ছদ > শীর্ষ সংবাদ > জবাবদিহিতা না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে: মির্জা ফখরুল

জবাবদিহিতা না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে: মির্জা ফখরুল

শীর্ষ সংবাদ

 

সময়ের ডাক ডেস্ক:বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, আজকে দুর্ভাগ্যজনক যে পরপর কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়ে গেল কিন্তু সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা আমার কাছে মনে হয়, দেশে সার্বিক যে নৈরাজ্য সংঘটিত হচ্ছে, একইসঙ্গে জবাবদিহিতার যে কোনো ব্যবস্থা নেই সে কারণেই এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটছে। কারণ তার কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা নেই।
শুক্রবার বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এফ আর টাওয়ার পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সন্ধ্যার দিকে এফআর টাওয়ারে যান বিএনপি মহাসচিব। তিনি এ সময় ভবনটি ঘুরে দেখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ ঘটনা হৃদয় বিদারক ও মর্মান্তিক একটা অগ্নিকাণ্ড। যা আমাদের সকলকে অত্যান্ত মর্মাহত করেছে। এ ভবন তৈরিতে কোনো রকমভাবে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হয়নি। যারা ভবন তৈরি করেছেন, অগ্নিনির্বাপনের জন্য কোনো রকমের ব্যবস্থাও রাখেননি। আগুন লাগার পর কিছুক্ষণের মধ্যে এক্সিটের জন্য যে সিঁড়ি থাকার কথা সেটাও এখানে নেই। কেমন করে এ ভবনের অনুমতি পায়? আমি আসলে বুঝতে পারিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটাকে অবশ্যই হত্যাকাণ্ড বলতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। যেখানে মানুষের জীবনের প্রশ্ন সেখানে প্রত্যেকের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে যে, ফায়ার বিগ্রেডের যে সরঞ্জামাদি থাকা প্রয়োজন। একজন লোক লাফ দিয়ে পড়লো আমরা দেখেছি যে উদ্ধারে যে নেট থাকে সে নেট ব্যবস্থা এখানে দেখিনি। পানি বিভিন্ন জায়গা থেকে যোগাড় করে আনতে হয়েছে। দেখুন বিল্ডিংগুলো ঘন ঘন। এসবের মাঝে গ্যাপ থাকার কথা সেটাও নেই। এসব বিল্ডি নির্মাণের যারা অনুমতি দেয় যে কর্তৃপক্ষ যেমন রাজউকসহ অন্যান্য যারা আছে তাদের অবহেলার কারণে এটা হয়েছে।

মোট কথায় এই ঘটনার জন্য কাকে আপনি দায়ী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বলা মুশকিল হবে। সার্বিকভাবে সরকারেরই পরিচালনা করছেন যারা তাদের সার্বিক দায়িত্ব নিতে হবে। এক্ষেত্রে তাদেরকে এ বিষয়ে দায়-দায়িত্ব তো গ্রহন করতেই হবে।

ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ একটি অফিসের মালিক ফয়জুর রহমান হীরুকে পাশে নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি এখানে দেখার জন্য এসেছিলাম। আমার এক ছাত্রের এখানে একটা অফিস ছিল। সে (ফয়জুল রহমান হীরু) এখানে নিজেই আছে। তার একই অফিসে ৯জন মারা গেছেন এবং আরও তিনজন হাসপাতালে আইসিইউতে আছে। এটা হৃদয় বিদারক মর্মান্তিক একটি অগ্নিকাণ্ড যা আমাদের সকলকে অত্যন্ত মর্মাহত করেছে। এটা স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার মতো। এই যে মানুষগুলো চলে গেলো তাদের পরিবার-পরিজনদের বিষয়গুলো-কি ভয়াবহ মর্মান্তিক। উপরে সাবোকেশনের তারা চলে গেলেন। এটা আমি মেনে নিতে পারি না, আমরা কেউ মেনে নিতে পারছে না এই ধরনের মৃত্যু।

তিনি বলেন, আমি মনে করি যে, এই ক্ষেত্রে আমাদের ফায়ার বিগ্রেডকে আরও বেশি শক্তিশালী দরকার। তাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি-সরঞ্জামাদি দরকার যাতে মানুষজনকে রক্ষা করা যায়। আজকে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে- এই যে ব্যাসিক কতগুলো ফান্ডামেন্টাল উদ্যোগ তার প্রতি নজর দেয়া হচ্ছে না। আমরা আশা করব যে, এরপরে হয়ত সরকার সজাগ হবেন এবং তাদের যে বিভাগগুলো আছে তাদেরকে অন্তত মানুষের জীবন রক্ষার স্বার্থে আন্তরিক হবেন।

এ সময় মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।