প্রচ্ছদ > শীর্ষ সংবাদ > ‘আমি ছাত্রলীগের প্রোডাক্ট, আওয়ামী লীগও আমাকে ভোট দিয়েছে’

‘আমি ছাত্রলীগের প্রোডাক্ট, আওয়ামী লীগও আমাকে ভোট দিয়েছে’

শীর্ষ সংবাদ সিলেট প্রতিক্ষণ

সময়ের ডাক ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের নিজস্ব প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বলেছেন, ‘সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের একটা সময়সীমা আছে। সেই হিসেবে আমাদের হাতে আর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ সময় রয়েছে। আমরা বিএনপির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছি। তারা যদি এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না জানায়, আমরা কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে নেব’

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন মোকাব্বির খান।

মোকাব্বির খান বলেন, ‘আমি বার বার বলেছি জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য বানিয়েছে। তাদের হয়ে আমি সংসদে কথা বলতে চাই— এটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু আমি তো এ ব্যাপারে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। আমার দল আছে, জোট আছে। তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেই দিকে তাকিয়ে আছি।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু জোটগতভাবে নির্বাচন হয়েছে, সেহেতু জোটের প্রধান শরিক বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয়জন সংসদ সদস্যকে নিয়েই সংসদে যেতে চাই। সেটা হলেই ভালো হয়। এ বিষয়টি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কথা বলার জন্য গণফোরামের পক্ষ থেকে তিন জনকে (অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মোহসীন মন্টু ও অধ্যাপক আবু সাঈদ) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখভাল করছেন।’

মোকাব্বির খান বলেন, ‘একটা বিষয় সবার মনে রাখা উচিত। আমি কিন্তু গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে নির্বাচিত হয়েছি। সুতরাং আমার শপথের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গণফোরাম থেকেই আসবে। তারপরও আমরা মনে করি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংসদে গেলে ভালো দেখায়।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক দল বিএনপিকে রেখে শপথ গ্রহণ সমীচীন হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন একটা বিপর্যয়ের মধ্যেও আমরা যারা নির্বাচিত হয়েছি, তাদের উচিত সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলা। বিষয়টি আমরা যেমন উপলব্ধি করছি, বিএনপিও তেমনি উপলব্ধি করছে। কিন্তু নির্বাচনের পর যেহেতু সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফল প্রত্যাখান করা হয়েছে, সেহেতু শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে তাদের (বিএনপি) একটু সময় লাগবে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত তারা কী করে।’

‘কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্তটা দ্রুত নিতে হবে। আমি তো আর একদিনের জন্য রাজনীতি করি না। আমার দীর্ঘ রাজনীতির ক্যারিয়ার আছে। আমি ছাত্রলীগের প্রোডাক্ট। আমাকে কেবল বিএনপির লোকজন ভোট দেয়নি, আওয়ামী লীগের লোকজনও ভোট দিয়েছে। নইলে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারতাম না। সুতরাং তাদের হয়ে কথা বলার জন্য আমাকে সংসদে যেতে হবে। তবে সেটা আমার দল গণফোরামের সম্মতির ভিত্তিতে হতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এককভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই’— বলেন মোকাব্বির খান।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এগুলোর কোনো মূল্য নেই। যেসব সুযোগ-সুবিধা ও বেতন-ভাতার কথা বলা হচ্ছে, তার থেকে বহুগুণ আমি এলাকার মানুষের জন্য খরচ করেছি। নির্বাচনে অংশ না নিলে অথবা জয়ী না হলে হয়তো দেশেই থাকতাম না। দেশের বাইরে থেকেই এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি দীর্ঘ দিন ধরে- সেটাই করতাম।’

মোকাব্বির খান বলেন, ‘শপথ গ্রহণের বিষয়টি আমার কাছে এই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ যে, যারা আমাকে ভোট দিয়েছে, তাদের কাছে আমার যে কমিটমেন্ট, সেটা রক্ষা করা। কারণ, আমার রাজনীতি এক দিনের জন্য না। আমাকে রাজনীতি করতে হবে এবং বার বার তাদের (জনগণ) কাছে যেতে হবে।’

তথ্য সূত্র : sarabangla.net