প্রচ্ছদ > শীর্ষ সংবাদ > মেয়র আরিফের বাসা দিয়েই হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন শুরু

মেয়র আরিফের বাসা দিয়েই হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন শুরু

শীর্ষ সংবাদ সিলেট প্রতিক্ষণ

সময়ের ডাক:সিটি কর্পোরেশনের বিধি অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ ১৩ বছর যাবৎ তা করা হয়নি। ফলে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে আগের হিসেবেই। এতে নতুন করে করারোপ যেমন সম্ভব হয়ে ওঠেনি তেমনি বাড়েনি কর দাতাদের সংখ্যাও। যে কারণে বিশাল অংকের কর ফাঁকিতে ক্ষতিতে পড়ে আছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

এ অবস্থা থেকে উত্তরন ঘটাতে নগরবাসীর নিজস্ব ভূমি ও ভবনের পরিমাপ এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন (জেনারেল রি-এ্যাসেসমেন্ট) কার্যক্রম শুরু করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯ টায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কুমারপাড়াস্থ নিজ বাড়ির পুনর্মূল্যায়ন ফরম গ্রহনের মধ্যদিয়ে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

সোমবার প্রথম দিনে সিটি কর্পোরেশনের ১, ২, ৪, ১৫, ১৭ ও ১৮ নং ওয়ার্ডে ৬টি টিমের সমন্বয়ে নতুন এবং পুরাতন বাসা-বাড়ির বিবরণ ও বাজ্যিক ভবন, স্থাপনা, জমির পরিমাণ সহ বিস্তারিত বিবরণ প্রেরণের জন্য রি-এ্যাসেসমেন্ট ফরম বিতরণ করা হচ্ছে। ফরম পাওয়ার পর তা পূরণপূর্বক ৭দিনের মধ্যে নগর ভবনের এ্যাসেসমেন্ট শাখায় জমা দিতে হবে।

এ কার্যক্রম পর্যাক্রমে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে চলবে। ফলে রাজস্ব বাড়বে সিটি কর্পোরেশনের।

জানা গেছে- পাঁচ বছর অন্তর এ কার্যক্রম নির্ধারনের বিধান থাকলেও দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছরেও এ কার্যক্রমের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দ্বিতীয় মেয়াদে আরিফুল হক চৌধুরী সিসিকের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিকেই এ উদ্যোগ গ্রহন করেন।

তবে প্রথম মেয়াদে এ উদ্যোগ গ্রহনের ইচ্ছে থাকা সত্বেও দীর্ঘ প্রায় তিন বছর কারাবাসের কারণে সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি জানিয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রি-অ্যাসেসমেন্ট কাজে সংশ্লিষ্টদের কোন অনিয়ম-গাফলতি বরদাস্ত করা হবে না। এ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সরাসরি তাকে জানানোর অনুরোধ করেন।

মেয়র বলেন, “হোল্ডিং ট্যাক্স মাফ করার কোন বিধান নেই। অতিতে যারা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় না করে ভোটের রাজনীতির স্বার্থে সম্মানিত নাগরিকদের শুধু বকেয়া ঋণের বোঝা বাড়িয়েছেন, তারা সম্মানিত নাগরীকদের মারাত্মকভাবে ক্ষতি করেছেন। এখন সেই ঋণ আদায় করতে নগরবাসীকে যে ভাবে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়, ঠিক সেইভাবে আমাকেও পড়তে হচ্ছে বিভ্রান্তিতে”।

সিসিকের সচিব মোহাম্মদ বদরুল হক বলেন, পুরনো এবং নতুন বাসা-বাড়ির ধার্য্যকৃত হোল্ডিং ট্যাক্সের সমতা ফিরিয়ে আনতে ২৭টি ওয়ার্ডে প্রায় ৫৫ হাজার হোল্ডিং ধারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহপূর্বক কর ধার্য্য কার্যক্রম চলবে। এ কাজে সকল নাগরিকবৃন্দের সর্বাত্মক সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।

সিসিকের এসেসর চন্দন দাশ জানান, রি-এ্যাসেসমেন্ট ফরম গ্রহনের সময় থেকে ৭ দিনের মধ্যে তা পূরণ করে জমা দিতে হবে। অন্যতায় বিধি অনুযায়ী একতরফাভাবে কর নির্ধারণ করা হবে।

এসময় সিসিকের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-৩ এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জল, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান সহ সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।