প্রচ্ছদ > শিক্ষা > নানা আয়োজনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা

নানা আয়োজনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা

শিক্ষা সিলেট প্রতিক্ষণ

সময়ের ডাক: নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হলো সিলেটের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির নবীন বরণ ও বিদায়ী অনুষ্ঠান। এতে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ ও বিভিন্ন বিভাগে মিলে ৩ শত শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেয় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি।

শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের বটেশ্বরস্থ তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার, মাগুরা -১ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, ১৭ পদাতিক ডিভিশন এর বিএসপি, এনডিসি, জিওপি ও সিলেট এরিয়া কমান্ডর মেজর জেনারেল এসএম শামিম-উজ-জামান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জৈবুন্নেসা হক।

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তৌফিক রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের পরিবেশে মুগ্ধ উল্লেখ করে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের সু-বিশাল পরিসর, মনোরম পরিবেশ আর সুন্দর্য দেখে আমি মুগ্ধ। এজন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে গবেষণা করা। বিশ্ববিদ্যালয় নতুন কিছু উদ্ভাবনে গবেষণাগার হিসেবেই বিশ্ববিদ্যালয় তার ভূমিকা রাখবে। নতুন নতুন গবেষণার মাধ্যমে কোন কিছু উদ্ভাবন করতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম নাহিদ সরকা এর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, ক্ষুধা মুক্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গরতে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য বিশ্বের কাছে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উদাহরণ হিসেবে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে স্বাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক। একসময় এ হার অনেক কম ছিলো।

নারী শিক্ষায় সরকারের উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরে বলেন, এক সময় দেশে নারী শিক্ষার হার খুব কম ছিলো। কিন্তু বর্তমানে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা অনেক এগিয়ে। তিনি বলেন, মেদের পড়ালেখায় উদ্বুদ্ধ করতে দেশের প্রতিটি স্কুল কলেজে উপবৃত্তি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে ২ কোটি ৬৬ লক্ষ ছেলে মেয়ে উপবৃত্তি পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি তিনি সকল নবীন শিক্ষার্থীদের স্নাতক শিক্ষাজীবনে সাফল্য কামনা করে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের দেশের জন্য, দেশের উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়োজিত করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

এদিকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার বিশ্বের সকল জায়গায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অবদান থাকবে প্রত্যাশা করে বলেন, আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা জ্ঞান দিয়ে একদিন বিশ্ব জয় করবে। তিনি বলেন, জ্ঞান বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হলে এ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সকলে শ্রদ্ধার সাথে জ্ঞানীদের স্মরণ রাখে জানিয়ে হাফিজ আহমদ মজুমদার উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নতির যে শিখরে এনেছেন এর দেখ শোন করার দায়িত্ব তমাদের।

মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর বলেন, যে জন্ম শুধু নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে সে জন্মের কোন সার্থকতা নেই। তাই স্বপ্ন দেখতে হবে বাংলাদেশকে নিয়ে, বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তমার শিক্ষা অর্জন হোক মানুষের কল্যাণে, দেশের কল্যাণের উদ্দেশ্যে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. শিব প্রসাদ সেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তাহের বিল্লাল খলিফা, মানবিক ও সামাজিক অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুরেশ রঞ্জন বুসাক, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. রবিউল হোসেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সহকারী প্রক্টর এডভোকেট আব্বাছ উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রেজওয়ানা সামী, ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের রবিউল করিম ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত অনুভূতি ব্যক্ত করেন, ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের বিদায়ী শিক্ষার্থী প্রীতি পাল ও নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত অনুভূতি ব্যক্ত করেন, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী মুহসিনা বুশরা।

এর আগে বিকাল ৪ টায় ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রথমেই ইউনিভার্সিটির রোভার স্কাউটের সদস্যরা ফুলের তুড়া দিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেন।