প্রচ্ছদ > জাতীয় > ‘জনবান্ধব পুলিশ’ দেখতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

‘জনবান্ধব পুলিশ’ দেখতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়

 

সময়ের ডাক ডেস্ক:পুলিশ সদস্যদের জনগণের সমস্যাকে একান্ত ‘আন্তরিক’ ও ‘মানবিক’ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জনগণের মনে পুলিশ সম্পর্কে যেন অমূলক ভীতি না থাকে সেজন্য নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পুলিশকে আমরা সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় ‘জনবান্ধব পুলিশ’ হিসেবে দেখতে চাই। এজন্য পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজারবাগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক বাংলাদেশ পুলিশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাসহ দেশমাতৃকার সেবায় সর্বদা পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুলিশ সদস্যগণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এজন্য বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্যকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে আমরা ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। আমাদের সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ পুলিশে আজ দৃশ্যমান পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা বর্তমান মেয়াদেও আমরা পূর্ণমাত্রায় অব্যাহত রাখবো।

পুলিশের জন্য প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত আনসার ও গ্রাম পুলিশের সক্ষমতাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। ক্যাডার কর্মকর্তাসহ সকল নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যকে বুনিয়াদী এবং মৌলিক প্রশিক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, নৈতিক স্খলন যে কোন বাহিনীর মনোবল দুর্বল করে দেয়। জনগণের পয়সায় বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। আমরা সকলেই জনগণের সেবক। সেই জনগণ যেন কোনভাবেই নিগৃহীত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

মনে রাখবেন, আপনাদের সকল সফলতার জন্য আপনারা পুরস্কৃত হবেন, পাশাপাশি জবাবদিহিতাও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার পুলিশ সেন্টার, ডিএনএ ল্যাব, অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম এবং আধুনিক রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে যা মামলা তদন্তে নির্ভুল ও প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে যথার্থ ভূমিকা রাখছে। পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এপিবিএন বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারসহ সারাদেশে ৩০টি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের কল্যাণের জন্য পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ভিত্তি আমরাই গঠন করে দিয়েছি। দায়িত্ব পালনকালে আহত ও নিহত সদস্যদের পরিবারবর্গকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। পুলিশের জন্য কমিউনিটি ব্যাংক, বাংলাদেশ এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পরিদর্শকদের জন্য বছরে এককালীন মূল বেতনের সমান বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল পদের পুলিশ সদস্যদের এই ভাতা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের জন্য রেশন প্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত বার্ষিক কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ, বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য পদক বিতরণ, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির স্টল পরিদর্শন ও পুলিশ সদস্যদের সাথে কল্যাণ প্যারেড এবং মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেবেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সচিব, সরকারি, বেসরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও পুলিশের সকল স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।