প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > সিলেটের রেল উন্নয়নে ডিও লেটার দিলেন মোমেন

সিলেটের রেল উন্নয়নে ডিও লেটার দিলেন মোমেন

সিলেট প্রতিক্ষণ

সময়ের ডাক :পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেন সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগের উন্নয়নে ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) ইস্যু করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারী) রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বরাবরে তিনি এ ডিও লেখেন।

এর মধ্য দিয়ে সিলেটবাসীকে দেওয়া নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেন ড. এ কে আব্দুল মোমেন। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এটি তাঁর প্রথম ডিও লেটার বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

ডিও-তে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগের উন্নয়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রী চার দফা সুপারিশ করেছেন। এর মধ্যে প্রথম হচ্ছে, জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে প্রচলিত ট্রেনসমূহে আরামদায়ক উন্নতমানের নতুন বগি সংযোজন, একই রুটের প্রতিটি ট্রেনে অন্তত দু’টি করে এয়ারকন্ডিশন কোচ এবং এয়ারকন্ডিশন কার সংযোজন।

দ্বিতীয়ত, সিলেট-ঢাকা রুটে নতুন একটি সরাসরি ট্রেনের যোগাযোগ চালুকরণ। তৃতীয়ত, সিলেট-ঢাকা রুটে ব্রডগেজ বা ডুয়েলগেজ (যেটি তাড়াতাড়ি সম্ভব) চালু করা। আর চতুর্থত, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সিলেট-ঢাকা ‘বুলেট ট্রেন’ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

রেলপথ মন্ত্রীকে ইস্যু করা এই পত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিলেট বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক, প্রবাসীসমৃদ্ধ ও অন্যতম পর্যটন জনপদ। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর সংখ্যক দর্শনার্থী এবং অন্যান্য পেশাজীবী এ অঞ্চলসমূহে ভ্রমণ করেন। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে গত বছর বৃহত্তর সিলেটের শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় চা নিলামকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে প্রতিমাসে বিশেষ একটি দিনে চা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। ওই নিলামে চট্টগ্রাম থেকে ১৫০ থেকে ১৮০ নিলাম ডাককারীরা শ্রীমঙ্গলে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন এয়ারকন্ডিশন কমপার্টমেন্ট না থাকার কারণে এই সকল ডাককারীকে চট্টগ্রাম থেকে বিমানযোগে ঢাকা, পুনরায় বিমানযোগে সিলেট হয়ে সড়কপথে শ্রীমঙ্গলে যেতে হয়। এ অবস্থায় সিলেটে রেলসেবা আরো উন্নত করার লক্ষ্যে উপরোক্ত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জোর দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর নাজুক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশের রেলপথ ও রেলসেবার মানের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ রেলসেবার এই সুফল ভোগ করলেও সিলেটবাসী অনেকাংশেই বর্তমান এই উন্নত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনসমূহে পুরাতন কোচ বা বগিসমূহে সেগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এর ফলে সিলেটগামী রেলযাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাই, এই অঞ্চলের গুরুত্ব বিবেচনা করে দুই রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের উন্নত রেলসেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।