প্রচ্ছদ > জাতীয় > উদ্ধার হলো শাহনাজের সেই স্কুটি

উদ্ধার হলো শাহনাজের সেই স্কুটি

জাতীয়

সময়ের ডাক ডেস্ক: ভাড়ায় বাইক চালানো সংগ্রামী নারী শাহনাজ আক্তারের চুরি যাওয়া আয়ের অবলম্বন বাইকটি শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে শাহনাজের স্কুটিটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।

তিনি জানান, রাতেই অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে শাহনাজ আক্তারের স্কুটিটি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রতারক জনিকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্কুটিটি আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় শাহনাজের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান সহকারী কমিশনার।

একজন নারী হয়েও রাইড শেয়ারিং অ্যাপে ভাড়ায় স্কুটি চালাতেন শাহনাজ। স্কুটি চালিয়ে যা আয় হতো তা দিয়েই চলত তার সংসার। তার সেই অবলম্বনটি মঙ্গলবার চুরি হয়ে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ভাইরাল হয়। অনেকেই তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বাইকটি উদ্ধারে তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ বিষয়ে শাহনাজ আক্তার বলেন, ঋণ করে স্কুটিটি কিনেছিলাম। এই স্কুটিটি দিয়েই চলত আমার সংসার। গতকাল সেই সম্বলটিও চুরি হওয়ার পর বেশ ভেঙে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম জীবনযুদ্ধে হয়দো হেরে যেতে হবে।

অবশেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাইকটি উদ্ধার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি তিনি স্কুটিটি চুরির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

শাহনাজ আক্তারের স্কুটিটি নীল রঙের। যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-হ ৫৫-২৯৪৭। স্কুটিটি মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীত দিকে রাজধানী স্কুলের সামনে থেকে চুরি যায়। পরে তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ করেন।

সংগ্রামী নারী শাহনাজ আক্তার সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। রাজধানীর মিরপুরেই জন্ম তার। বাবা নেই, মা আর বোনেরা আছেন। স্বামী থাকলেও তিনি আলাদা থাকেন। তার সঙ্গে তার দুই মেয়েও থাকে। বড় মেয়ে নবম ও ছোট মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।