প্রচ্ছদ > সিলেট প্রতিক্ষণ > গোলাপগঞ্জে একদিনে দুই লাশ উদ্ধার

গোলাপগঞ্জে একদিনে দুই লাশ উদ্ধার

সিলেট প্রতিক্ষণ

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জে একদিনে দুটি রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের একটি গাছের সাথে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরপর দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে এক সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

দুজনের মৃত্যুর সঠিক কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে পুলিশ ও মৃতদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তারা আত্মহত্যা করেছেন।

জানা যায়, আজ সোমবার সকালে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের তালন মিয়ার পুত্র রাজমিস্ত্রি ফরহাদ আহমদের (২২) ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে খবর দেয়া হয়। গোলাপগঞ্জ মডেল থানার এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

ফরহাদের মা আফিয়া বেগম জানান, গতকাল রোববার রাতে পরিবারের কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয় ফরহাদ। রাতে বাড়িতে না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধান করেও খোঁজ পায়নি পরিবার। পরে সকালে এলাকারবাসীর মুখ থেকে শুনতে পান গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার নিথর দেহ পাওয়া গেছে। ফরহাদ ২ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে বড় ছিল।

একই দিন সকাল ৯টার দিকে শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের মৃত আক্তার হোসেনের মেয়ে এক সন্তানের জননী খালেদা আক্তারের গলা কাটা লাশ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে বাড়ির সবার অগোচরে তিনি নিজেই গলায় ধারালো চুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। খালেদা আক্তার মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানান তারা।

খালেদা আক্তারকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে বিয়ে দেয়া হয়। তার স্বামী জাহাঙ্গির আলম ইলেক্ট্রিকের কাজ করেন। খালেদা আক্তারের ভাই ফ্রান্স প্রবাসী। তিনি দেশের আসার সুবাদে গত ৯ জানুয়ারি খালেদা বাবার বাড়িতে আসেন। খালেদা আক্তারের হানিয়া জান্নাত তিন্নি নামের ৪৫ দিন বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি পরিবারের ২ বোন ও ৪ ভাইয়ের মধ্যে ২য় ছিলেন।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক শিবলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুটি মৃত্যুই মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ঘটেছে। থানায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। দুপুরে ফরহাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। খালেদা আক্তারের লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।