‘আসামির সাক্ষীতে কি আরেক আসামির বিচার হয়’

সময়ের ডাক ডেস্ক: বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, মুফতি হান্নানকে জেরা করার মতো যথেষ্ট সময় পায়নি আসামি পক্ষ, তার আগেই তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ২১ আগস্টের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ মামলার ফয়সালার আগ পর্যন্ত মুফতি হান্নানের ফাঁসি স্থগিত রাখাটাই আবশ্যক ছিল। যাকে গ্রেনেড হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে তার কি বিচার হয়েছে? তাকে এই রায়ে কেন সাজা দেয়া হল না? আগেই মেরে ফেলা হল কেন? আসামির সাক্ষীতে কি আরেক আসামির বিচার হয়? অদ্ভুত আওয়ামী বিচার প্রক্রিয়া।

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিশ্চিহ্ন করে দিতেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় দেয়া হয়েছে। তার মতে, মামলার মূল টার্গেট হচ্ছে- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কোনো সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আক্রোশমূলক তাকে সাজা দেয়া হয়েছে।

এ রায়কে ক্ষমতাসীন সরকারের নিষ্ঠুর অবিচারের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন রিজভী। তার ভাষ্য, সবই করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় জিয়া পরিবারকে হেয় করার জন্য।

রিজভী বলেন, ২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট মুক্তাঙ্গনে সমাবেশের জন্য আবেদন করে ১৯ তারিখ তারা পুলিশের অনুমতির কপি পেয়েছে। কিন্তু পুলিশকে কোনো কিছু না জানিয়ে মুক্তাঙ্গন থেকে সমাবেশ হঠাৎ তাদের দলীয় অফিসের সামনে নেয়া হলো কেনো? অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে রায়ে সাজা দেয়া হলো।

তারা সমাবেশের ভেন্যু সম্পর্কে পূর্বে ওয়াকিবহাল না হলে নিরাপত্তা দিবে কিভাবে? ২১শে আগস্ট হঠাৎ করে দুপুরে ভেন্যু পরিবর্তন খবর শোনার পরেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রচেষ্টা তারা করেছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ নিজেরাই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়ার কোনো স্পেস রাখেনি। এসব কিছুতে প্রমাণিত হয় তাদেরই কোনো পক্ষ এই ঘটনার নাটের গুরু। এই ঘটনা নিয়ে জনগণ ও সচেতন শ্রেণীর মনে কিছু প্রশ্ন দানা বেঁধেছে।