সুনামগঞ্জ-৩: আওয়ামী লীগের ভরসা মান্নান , দুশ্চিন্তায় বিএনপি

সময়ের ডাক ডেস্ক : জগন্নাথপুর পৌরসভাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন মাঠে। এটি ভিআইপি আসন হিসেবেই পরিচিত। এর আগে এ আসনের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে গেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আবদুস সামাদ আজাদ, মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী ফারুক রশীদ চৌধুরী।

বর্তমান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন জাতীয় সংসদে। অন্তত সিলেট বিভাগের আর কোনো আসন থেকে এমপি হওয়ার পর এত বেশিসংখ্যক মন্ত্রী হননি। আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের হয়ে প্রার্থী হতে চান এমএ মান্নান। এরই মধ্যে তিনি মাঠে নেমে পড়েছেন। গণসংযোগের পাশাপাশি স্থানীয় সভা সমাবেশে নৌকায় ভোটও চাচ্ছেন। এলাকায় তিনি ব্যাপক কাজও বাস্তবায়ন করেছেন।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আবদুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ আজাদ ডনও এ আসনে প্রার্থী হতে চান। স্থানীয় সভা-সমাবেশে নৌকায় ভোট চাচ্ছেন আজিজুস সামাদ। দলের মনোনয়ন চাচ্ছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক ও মৎস্যজীবী লীগ সুনামগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক প্রবীণ আইনজীবী মো. ইসলাম আলী।

স্থানীয় নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের লড়াই এমএ মান্নান ও আজিজুস সামাদ ডনের মধ্যে হলেও এগিয়ে রয়েছেন মান্নানই। বরাবরই এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের লড়তে হয় জোটের শরিকদের সঙ্গে। গত কয়েকটি নির্বাচনে জোটের বলি হয়েছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

জানা যায়, শেষ পর্যন্ত জোটের শরিক জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব সাবেক এমপি মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী ও যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা নজরুল ইসলামের মধ্যে যে কোনো একজন প্রার্থী হতে পারেন। নজরুল প্রার্থী হলে পাল্টে যেতে পারে অনেকের ভোটের হিসাব। তবে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) আলী আহমদ, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, যুক্তরাজ্য বিএনপির কোষাধ্যক্ষ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন এমএ সাত্তার, যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক আহমদ ও সাজু আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি এমএ মালেক খান ও জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবু হুরায়রা সাদ মাস্টার। ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এমপি হন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারির নির্বাচনে এমপি হন বিএনপির গুলজার আহমদ।

আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হন ৪ দলীয় জোটের শরিক জমিয়তের মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বর্তমান প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহীনুর পাশা চৌধুরী ধানের শীষ নিয়ে ৫৬ হাজার ৭৬৫ ভোট পান। ২

২০১৪ সালের নির্বাচনেও এমএ মান্নান বিজয়ী হন। কথা হয় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের সঙ্গে। তিনি বলেন, দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নেত্রীর নির্দেশে সার্বক্ষণিক মাঠে আছি। গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। ১০ বছরে নির্বাচনী এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে, তা ৪০ বছরেও হয়নি। অসমাপ্ত কাজ শেষ করতেই প্রার্থী হতে চাই। জনগণ কাজের মূল্যায়ন করবে বলে মনোনয়নের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

আজিজুস সামাদ ডন বলেন, আমার বাবা এমপি হিসেবে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে চাই। কেন্দ্রের সবুজ সঙ্কেত পেয়ে গণসংযোগে নেমেছি, সাড়া পাচ্ছি। মনোনয়ন পেলে বিজয় নিশ্চিত।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট ইসলাম আলী বলেন, পোস্টার-লিফলেট বিতরণসহ এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি।

দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই।

যুবলীগের সাবেক নেতা নজরুল ইসলাম এ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানা গেছে। সেই টার্গেট নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরছেন।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ হলে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হবেন বলে জানান। বিএনপির আসন ভাগাভাগি হলে আসনটি ঐক্যফ্রন্ট চাইবে। বিএনপি জোটের শরিক জমিয়ত নেতা মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহের পাশাপাশি আতঙ্কও রয়েছে। আন্দোলন ও নির্বাচন একসঙ্গে চলবে। নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই ভোটে যাব ইনশাআল্লাহ।

মনোনয়ন পেলে বিজয় নিশ্চিত। জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবু হুরায়রা সাদ মাস্টার কাছে অভিযোগ করেন, পুলিশ বিনা কারণে আমাদের নিরপরাধ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। যুব দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবদুল হাশিম ডালিমকে না পেয়ে তার বাড়ির দরজা-জানালাসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে নেতাকর্মীরা বাড়ি ছাড়া।

সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয় রয়েছে। যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। সে লক্ষ্যে তিনি আনোয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষা বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ প্রদান ছাড়াও এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি প্রার্থী হবেন বলে জানান আনোয়ার হোসেন।

সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বিএনপি নেতা এমএ মালেক খান বলেন, ২০০১ সালে মনোনয়ন পেলেও জোটের কারণে তা ছাড়তে হয়েছিল।

এবার তৃণমূলের দাবি এবং খালেদা জিয়ার নির্দেশে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছি। নেত্রীকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ। বিএনপি নেতা লে. কর্নেল (অব.) আলী আহমদ এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

যুক্তরাজ্য বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এমএ সাত্তার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এমএ সাত্তার বলেন, দল নির্বাচনে গেলে আমি অবশ্যই মনোনয়ন চাইব।

জাতীয় পার্টি সুনামগঞ্জ জেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সভাপতি ও যুক্তরাজ্য জাতীয় পার্টি সহ-সভাপতি জুবায়ের আহমদ হামজা দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে আমার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আমি এলাকায় গণসংযোগ শুরু করব।