শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহাসপ্তমী

সময়ের ডাক : সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী আজ (মঙ্গলবার)। সার্বজনীন এ দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সিলেট এখন সেজেছে বর্ণিল সাজে।

মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী-দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান ও মহাপ্রসাদ গ্রহণ ‍শুরু হয়েছে এদিন থেকে।

সিলেটসহ সারা দেশে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে মহাষষ্ঠী পূজা। সকালে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ এবং সন্ধ্যায় বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাস এবং ষষ্ঠী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেই সঙ্গে ছিল পুষ্পাঞ্জলি, আরতি ও প্রসাদ বিতরণ। মূল প্রতিমায় দেবীর রূপ কল্পনা করে আট উপচারে দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী পূজায় ভক্তরা দেবীর বন্দনা করেছেন।

শহরজুড়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। রয়েছে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন। আর তাই রঙ-বেরঙের ঝারবাতি আর লাইটের আলোতে এখন আলোকিত হয়ে ওঠেছে পুরো শহর।

মঙ্গলবার মহাসপ্তমীতে হয়েছে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, ষোড়শ উপচারে অর্থাৎ ষোলটি উপাদানে দেবীর পূজা। উৎসবের দ্বিতীয় দিন সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হয়েছে।

সকালে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করেছেন ভক্তরা।

এবার সিলেট জেলা ও মহানগরে ব্যক্তিগত ও সার্বজনীন মিলিয়ে মোট ৫৯১টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাৎসব উদযাপিত হবে। গত বছরে সিলেট জেলা ও মহানগরে মোট ৫৭৬টি মন্ডপে পূজা উদযাপিত হয়েছিল। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে সার্ব্বজনীন ৪৮টি এবং ব্যক্তিগত ১৪টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গা পূজায় সিলেটের সকল জেলা ও মহানগর এলাকার সকল মন্ডপে মন্ডপে নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতাও। তাছাড়াও বড় ও গুররুত্বপূর্ণ মন্ডপগুলোতে সরাসরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোন রকমের নাশকতা এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোন রকমের সন্দেহ হলেই যে কাউকে করা হবে তল্লাশি। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূজা চলাকালে টহলও জোরদার করা হয়েছে।

পূজায় সর্বোচ্ছ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগর পুলিশ (এসএমপি) বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটিকে প্রতিটি মন্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশপথ রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা, তল্লাশির জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর রাখা, সন্ধ্যার পূর্বেই প্রতিমা বিসর্জন দেয়াসহ বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।