শিলংয়ে সালাহ উদ্দিনের রায় আরেক দফা ফিছিয়ে ৯ নভেম্বর

সময়ের ডাক ডেস্ক :: ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদের রায়ের তারিখ আরেক দফা পিছিয়ে ৯ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ অক্টোবর) শিলংয়ের বিচারিক হাকিম ডি জি খারশিংয়ের আদালত নতুন এ তারিখ ঠিক করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উয়ং সদস্য শায়রুল কবীর খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে ১৩ আগস্ট শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন। পরে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক হয়। কিন্তু ২৮ সেপ্টেম্বর রায় না দিয়ে ১৫ অক্টোবর রায়ের দিন ঠিক করেন ডিজি খারশিংয়ের আদালত।

বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে ঢোকার অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় দায়ের করা এ মামলা চলছে গত তিন বছর ধরে। অবশ্য সালাহ উদ্দিনের আইনজীবী আদালতকে বলেছেন, তাকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। পরে চাকরি ছেড়ে কক্সবাজার থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে চার দলীয় জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এবং দফায় দফায় হরতালের মধ্যে সালাহ উদ্দিন আহমেদ আত্মগোপন থেকে নিখোঁজ হন।

সহিংস আন্দোলনের মধ্যে বিএনপি নেতারা একের পর এক গ্রেফতার ও আত্মগোপনে যাওয়ার পর অজ্ঞাত স্থান থেকে দলের মুখপাত্র হিসেবে বিবৃতি পাঠিয়ে কর্মসূচি দিচ্ছিলেন সালাহ উদ্দিন। এরই মধ্যে ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

ঢাকা থেকে অন্তর্ধান হওয়ার দুই মাস পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে হদিস মেলে সালাহ উদ্দিনের। কিন্তু ভ্রমণের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। কিছুদিন কারাগার ও হাসপাতালে কাটানোর পর স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় জামিনে মুক্তি পান সালাহ উদ্দিন আহমেদ। কিন্তু ভারত ছাড়ার অনুমতি পাননি তিনি। এমন পরিস্থিতিতে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ও কয়েকজন স্বজন নিয়ে শিলংয়ে থাকতে হয় তাকে।

২০১৬ সালে অসুস্থতার কারণে দিল্লি গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আসেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিতে চাইলেও তাতে শিলংয়ের আদালত অনুমতি দেননি।