‘প্রধানমন্ত্রী নিজ দলের অনাচারের দায় বিএনপির ওপর চাপিয়েছেন’

সময়ের ডাক ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ দলের ‘অনাচারের’ দায় বিএনপির ওপর চাপিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন রুহুল কবির রিজভী।সোমবার (১৫ অক্টোবর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, রোববার মাওয়া ও শিবচরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আজগুবি, উদ্ভট, স্ববিরোধী নানা কথা বলেছেন—যা জাতিকে হতবাকই করেনি, মানুষ মুচকি হেসেছেও। আসলে তিনি তার বক্তব্যে নিজ দলের অনাচারগুলোর দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে বক্তব্য রেখেছেন।’

‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই, ২০০৬ সালের অক্টেবরে আপনি যখন লগী-বৈঠা নিয়ে আপনার কর্মীদের ঢাকায় আসতে বলেছিলেন, দলীয় লোকদের দিয়ে ২৮ অক্টোবর লাশের ওপর নৃত্য করিয়েছিলেন, তারপরও কী আপনাকে শান্তির দূত বলতে হবে?—বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে হত্যার হুমকির কথা বাদই দিলাম, এবারে ক্ষমতায় এসে বিএনপির মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে যুবনেতা-ছাত্রনেতাসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের গুম হওয়া— যা প্রত্যক্ষভাবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন দ্বারা সংঘটিত হয়েছে, তারপরও কি আপনাকে মানবতার জননী বলতে হবে?’

‘বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার বিচার বহির্ভূত হত্যার হিড়িকে দেশব্যাপী আতংক ও ভয়ের গ্রাসের মধ্যেও আপনাকে কি আইনের শাসনের সরকার প্রধান বলতে হবে?’

‘আপনার শাসনামলেই সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে, দেবালয়ের পুরোহিতকে হত্যা করা হয়েছে, বিদেশীরা হত্যার শিকার হয়েছেন। আপনার দলের এমপি কচি বাচ্চা ছেলের পায়ে গুলি করেছে, নারায়ণগঞ্জের নিস্পাপ কিশোর ত্বকী হত্যারও অভিযোগ সেখানকার এমপির বিরুদ্ধে— তারপও আপনাকে কি মাদার তেরেসা বলতে হবে’— প্রশ্ন রিজভীর।

রিজভী বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষের মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে আপনি নিজেকে একক ভাষ্যকারে পরিণত করেছেন। বক্তৃতায় অন্যকে খুনী, দুর্নীতিবাজ বলছেন। অথচ খুন, জখম যে আওয়ামী শাসনের ঐতিহ্য তা কিন্তু মানুষ ভুলে যায়নি।’

‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় একের পর এক সাজা দিয়ে আপনার ক্রোধাগ্নী নির্বাপন করতে পারেননি। এর ওপর মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে পাথর চাপা দিয়ে গোটা জাতির দম বন্ধ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালাকানুন করে আপনারা গণতন্ত্রকেই লকআপ করেছেন’— বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘এখন মানুষ মন খুলে কথা বলতে এবং হাসতেও ভয় পায়। মানুষ এখন ডিজিটাল আতংকে ভুগছে। আপনার নির্বাচনে ভোটারদের কোন অস্তিত্ব নেই, আপনার অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে তা ভোট ডাকাতি। গণমাধ্যমগুলোর মালিক ও সাংবাদিকরা চরম আতংকে আছেন। এরপরও কী আপনাকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বলতে হবে ?’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।