খুনি দুর্নীতিবাজদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

সময়ের ডাক ডেস্ক :: নতুন রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ ও এর নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, যারা অগ্নিসন্ত্রাস করে, যারা খুনি, যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত- তাদের সঙ্গে জোট করেছেন, হাত মিলিয়েছেন ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং আসম. আবদুর রব।

রোববার বিকালে মাদারীপুরের শিবচরে কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

কামাল হোসেনকে ‘শাবাশ’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কামাল হোসেনকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি নৌকা থেকে নেমে ধানের শীষের মুঠো ধরেছেন, যে ধানের শীষে ধান নেই, চিঁটা ছাড়া।’ তিনি বলেন, ‘ড. কামালও কালো টাকা সাদা করেছেন, খালেদাও করেছেন। তারা আজকে জোট করেছেন। রতনে রতন চেনে, শেয়ালে চেনে কচু।’

এর আগে সকালে পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে মাওয়া প্রান্তে সেতু মন্ত্রণালয় আয়োজিত সুধী সমাবেশে শেখ হাসিনা বলেন, ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরালে পদ্মা সেতু হবে না বলে পশ্চিমা দেশের অনেক রাষ্ট্রদূত আমাকে হুমকি দিত। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রচারণায় পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয় বিশ্বব্যাংক। অনেকের ধারণা ছিল বিশ্বব্যাংকের টাকা ছাড়া পদ্মা সেতু হবে না। আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হবে। নিজস্ব অর্থায়নে আজ পদ্মা সেতুর ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এটা সন্তোষজনক। এদিন বেলা সোয়া ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে করে মাওয়ার দোগাছির পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়ার-১ এর মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সড়ক পথে যান সেতু এলাকায়। সেখানে পৌঁছে ১১টা ১৮ মিনিটে তিনি সেতুর নামফলক উন্মোচন করেন। পরে পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ নির্মাণ ও মাওয়া প্রান্তে নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের পর পদ্মা সেতুর ‘প্রকল্প নকশা’ দেখেন তিনি। এরপর পদ্মা সেতুর মাওয়া টোল প্লাজা গোলচত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেন শেখ হাসিনা।

বিকালে শিবচরের জনসমাবেশে নৌকায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করেছে। নৌকা মার্কার বিজয় মানেই দেশের মানুষের উন্নয়ন। নৌকা মানেই মানুষের মুক্তি। নৌকার বিজয় হলে মানুষ পেটভরে ভাত খাবে, লেখাপড়া শিখবে, নতুনভাবে জীবনযাপন করবে, উন্নত জীবনযাপন করবে। আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি, সিমলা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। এ সময় তিনি আবারও নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে উপস্থিত সবার কাছে হাত তুলে প্রতিশ্র“তি নেন।

শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এ জনসভা যৌথভাবে পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সেলিম।

শিবচরে সমাবেশে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপি এক জোট। ওরা যখনই সুযোগ পায়, মানুষকে হত্যা করে, গুম করে। শুধু মানুষ হত্যা না, বিএনপির আমলে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কোকো-তারেক (খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো) মানি লন্ডারিং করতে গিয়ে আমেরিকায় ধরা পড়েছে।

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী বলে মনে করেন। আদতে খুচরা আধুলিরা সব ঐক্য করেছে। তিনি জঙ্গিবাদের কথা বলেন অথচ তিনি গিয়ে জোট করলেন জঙ্গিবাদের মদদদাতা জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে।

নতুন রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সুযোগ পেলেই মানুষ খুন করে। ২০০৮ সালেও অগ্নিসন্ত্রাসে তারা কত মানুষ হত্যা করেছে। তাদের খোঁজখবর কে রাখে? আর কামাল হোসেন গং তার সঙ্গে কিছু খুচরা আধুলি মিলে আজ ঐক্য করেছে। আমি কামাল হোসেকে বলতে চাই, ঐক্য করেছেন কার সঙ্গে? সারা জীবন নীতির কথা বলেছেন, মানবিকতার কথা বলেছেন! আর এখন নেতা মেনেছেন কাকে?

বিএনপির নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন কারাগারে বন্দি। এই সময়ে কি নেতা করার জন্য বিএনপিতে আর কেউ ছিল না? সেই মানি লন্ডারিংয়ে অভিযুক্ত, চাঁদাবাজ, শাস্তিপ্রাপ্ত আসামিকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে হল। আর তাকেই নেতা মেনেছেন কামাল হোসেন গং।

ড. কামাল হোসেনদের প্রতি আক্ষেপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন তাদের চোখে পড়ে না। আজ বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। সারা বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল মনে করে। আর তাদের কাছে উন্নয়ন মানে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মানি লন্ডারিংয়ের উন্নয়ন।’

ড. কামাল হোসেন ‘মরা গাঙে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মান্না, রব তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। তারা কী করতে পারবেন? তারা কী করতে চান? বাংলাদেশের উন্নয়ন তারা চোখে দেখেন না।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে ‘খুনি পরিবার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া পরিবার খুনি পরিবার। তারা পারে না এমন কোনো কাজ নেই। তারা যখনই সুযোগ পেয়েছে, মানুষ খুন করেছে। শুধু মানুষ খুন না, মানুষ গুম করেছে। খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া মিলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে। ওই দিন তারা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। তবে আইভী রহমানসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। তারা খুনি। গ্রেনেড হামলার আলামত না রেখেই তারা জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছিলেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, তারেক জিয়া এখন গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি যে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে পেরেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও হয়েছে। এবার গ্রেনেড হামলার মামলার বিচারও আমরা করতে পেরেছি।

দেশের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। প্রায় ৪০ লাখ মা-বোন বিনা পয়সায় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। ১৪ লাখের বেশি মা-বোন বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। প্রত্যেকের হাতে আমরা মোবাইল ফোন তুলে দিয়েছি। আমরা গুচ্ছগ্রাম, আদর্শগ্রাম, ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বিতরণ করে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছি। হতদরিদ্র প্রায় এক কোটি কৃষক ১০ টাকায় অ্যাকাউন্ট করতে পারে। যুবসমাজের জন্য বিনা জামানতে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিয়েছি। আমরা চাই দেশের মানুষ এগিয়ে যাক।

২১ আগস্ট হামলার রায়ের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সেই হত্যার আলামত না রেখে সেই হত্যার বিচার যাতে না হয়, সেজন্য তারা জজ মিয়ার নাটক করেছিল। শুধু তা-ই নয়, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এই দক্ষিণবঙ্গে তারা যে নির্যাতন চালিয়েছিল তার বিচার হয়নি।

২০০৯ সালের তৎকালীন বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও বিএনপি-জামায়াত জড়িত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের পেছনেও বিএনপি-জামায়াতের হাত ছিল। সেদিন পিলখানায় ৫৭ জন মেধাবী অফিসারকে খুন করা হল। তার মধ্যে ৩৩ জনই আওয়ামী পরিবারের। বিডিয়ার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তারেক রহমান ও তার পরিবার জড়িত। এর কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কোনো দিন দুপুর ১২টার আগে ঘুম থেকে উঠেন না। ওইদিন কেন সকাল সকাল ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে বের হলেন। ওইদিন তিনি ভোরেই ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান। এতেই প্রমাণিত তিনি ওই ঘটনায় জড়িত।

এর আগে পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে মাওয়া প্রান্তে সেতু মন্ত্রণালয় আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রকল্পের কর্মযজ্ঞে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ ৬০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং তাদের জীবনযাত্রার উন্নয়ন হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্প দেশের সর্ববৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প। সেতুটির নির্মাণ কাজ টেকনিক্যাল, সময়সাপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জিং। গুণগত মান শতভাগ রাখার স্বার্থে আমরা ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আমি বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করা এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করব। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করব। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে উন্নীত হব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ অঞ্চল। এই ব-দ্বীপ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমরা নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তায় ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ নির্ধারণ করেছি। এই প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অনেক উন্নয়ন হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের উদ্ধৃতি টেনে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। এটাই আমরা প্রমাণ করেছি। পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি আমরা পারি। আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, পারবে না।

সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এতে আরও বক্তব্য রাখেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। এ সময় মঞ্চে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর ৭ নম্বর খুঁটিতেই পাইল স্থাপনের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে মূল সেতুর কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। পদ্মা সেতুর ৪২টি খুঁটিতে ৪১টি স্প্যান বসবে। এর মধ্যে ১৪টি খুঁটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আর নদীতে ১৮০টি পাইল স্থাপন করা হয়েছে।

সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ম অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংকসহ পশ্চিমা বিশ্বের কিছু নেতা পদ্মা সেতু নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমি সমর্থন দিয়েছি। গ্রামীণ ফোনের লভ্যাংশ গ্রামীণ ব্যাংকের পাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে দরিদ্র মানুষের জন্য সেই টাকা ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু ফোনের কোনো লভ্যাংশ গ্রামীণ ব্যাংক পায়নি।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির বয়সসীমা ৬০ বছর হলেও ড. ইউনূসের বয়স ৭০ বছর হয়ে গিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে প্রস্তাব দেয়া হলো এমডি পদ ছেড়ে দিয়ে উপদেষ্টা হিসেবে তিনি যেন গ্রামীণ ব্যাংকে থাকেন। কিন্তু তিনি সেটা না মেনে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করে দিলেন।

ড. ইউনূস প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো অনুমোদন ছাড়াই এমডি ছিলেন এবং সরকারি বেতনও নিতেন। এটা সম্পূর্ণ ইলিগাল। তাকে আমরা কখনও অসম্মান করতে চাইনি। অর্থমন্ত্রী ও গওহর রিজভী ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে তাকে এমিরেটাস অ্যাডভাইজার করার প্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করলেন দুটি। একটা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে, আরেকটা সরকারের বিরুদ্ধে। কোর্ট চাইলে সেই বেতন ফেরত নিতে পারত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিলারি ক্লিনটন তাকে এমডি রাখতে ফোন করেন। টনি ব্লেয়ার ছিল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার স্ত্রী শেলি ব্লেয়ার ফোন করলেন। মামলায় তিনি হেরে গেলেন।

পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির যে অভিযোগ বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছিল সে প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দিয়েছিল, যার পেছনে ছিলেন ড. ইউনূস। তারা দুর্নীতির অভিযোগ তুলল, আমি বললাম আমি প্রমাণ চাই। তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। আমার বিরুদ্ধে, আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বারবার তারা তদন্ত করল। কিন্তু কোনো প্রমাণ পেল না। স্টেট ডিপার্টমেন্ট আমার ছেলে জয়কে তিনবার ডেকে নিয়ে শাসিয়েছে। এটা নিয়ে মামলা হয়েছে। আমরা প্রমাণ করেছি, সব অভিযোগ ভুয়া, মিথ্যা। কোনো দুর্নীতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ওপর আমার ভরসা ছিল। সেই ভরসা নিয়েই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। অনেক বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু নিজস্ব অর্থায়নে করেছি। এজন্য আমাদের অপমান ও নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। এর পেছনে দেশের কিছু লোক জড়িত। যারা গরিবকে টাকা দিয়ে সুদ খায়, তারা এর চেয়ে বেশি কী করতে পারে?