ডা. জাফরুল্লাহর ভুল স্বীকার, দুঃখপ্রকাশ

সময়ের ডাক ডেস্ক:একটি বেসরকারি চ্যানেলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার কথা স্বীকার করে এজন্যে দুঃখপ্রকাশ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও স্ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

শনিবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলন করে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘দেশের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সম্পর্কে অসাবধানতাবশত আমি একটি ভুল তথ্য উল্লেখ করেছিলাম। ভুল বক্তব্য ও শব্দ বিভ্রাটের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও মর্মাহত।’

তিনি বলেন, ‘জেনারেল আজিজের সম্মানহানি করার কোনো চিন্তা বা উদ্দেশ্য আমার ছিল না। জেনারেল আজিজকে আমি অসাবধানতাবশত কোনো মনকষ্ট দিয়ে থাকলে সেজন্য আমি পুনরায় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।’

সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন সময় টিভির এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী দাবি করেন, বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এক সময় ‘চট্টগ্রামের জিওসি’ ছিলেন এবং ওই সময় চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে ‘সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরি হয়েছিল’, যে ঘটনায় আজিজ আহমেদের ‘কোর্ট মার্শাল’ হয়েছিল।

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার সেনা সদরের এক প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, ‘বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ চাকরি জীবনে কখনোই চট্টগ্রামের জিওসি বা কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন না। তিনি সেপ্টেম্বর ২০১০ হতে জুন ২০১১ পর্যন্ত কুমিল্লায় ৩৩ আর্টিলারি ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন, জুন ২০১১ হতে মে ২০১২ পর্যন্ত ঢাকার মিরপুরে ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার এবং মে ২০১২ হতে ডিসেম্বর ২০১২ পর্যন্ত কুমিল্লায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণিত সময়ে চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা সেনানিবাসে কোনো সমরাস্ত্র বা গোলাবারুদ চুরি বা হারানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তার দীর্ঘ বর্ণাঢ্য সামরিক চাকরি জীবনে কখনোই কোর্ট মার্শালের সম্মুখীন হননি।’

সেনা সদরের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদ লিপি দেওয়ার পর শনিবার সংবাদ সম্মেলনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “টেলিভিশনে আলোচনাকালে আমি দেশের বর্তমানে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ সম্পর্কে অসাবধানতাবশত একটি ভুল তথ্য উল্লেখ করেছিলাম। জেনারেল আজিজ একজন দক্ষ আর্টিলারি সেনা কর্মকর্তা। তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ‘জিওসি’ ছিলেন না ‘কমান্ডডেন্ট’ও ছিলেন না। তিনি তার কর্মজীবনের এক সময়ে চট্টগ্রাম সেনাছাউনিতে আর্টিলারি প্রশিক্ষক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল হয়নি। একবার কোর্ট অব এনকোয়ারি হয়েছিল। ভুল বক্তব্য ও শব্দ বিভ্রাটের জন্য আমি আন্তরিক দুঃখিত ও মর্মাহত।”

সংবাদ সম্মেলনে নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা তুলে ধরেন ডা. জাফরুল্লাহ। তিনি বলেন, দেশে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের আইনের সংকীর্ণতার কারণে আমার কিডনি রোগের উত্তর চিকিৎসা সুলভে কিডনি প্রতিস্থাপন বাংলাদেশে সম্ভব নয়। এ কারণে জীবন রক্ষায় আমাকে প্রতি সপ্তাহে তিন দিন প্রতিবার চার ঘণ্টা করে হোমডায়ালাইসিস করতে হয়। ডায়ালাইসিসের পর স্বাভাবিক কারণে শারীরিক দুর্বলতা বাড়ে এবং মানসিক স্থিতি কিছুটা কমে। ‘সময়’ টেলিভিশনের বিশেষ অনুরোধে শারীরিক দুর্বলতা নিয়েই আমি ৯ অক্টোবর রাত ১০টায় তাদের একটি টকশো’তে অংশ নেই। ওই টকশো’তে আরও অতিথি ছিলেন একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ আলম লেলিন।