প্রচ্ছদ > জাতীয় > গ্রেনেড হামলা: তারেককে তার শাশুড়িই প্রথমে সন্দেহ করেন

গ্রেনেড হামলা: তারেককে তার শাশুড়িই প্রথমে সন্দেহ করেন

জাতীয়

সময়ের ডাক ডেস্ক:একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে আদালত। তবে গ্রেনেড হামলার মূল হোতা আখ্যা দিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এই জ্যেষ্ঠপুত্রসহ যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করা হবে।

বুধবার দুপুরে রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এই হামলার মূল নায়ক তারেক রহমান। তিনি আওয়ামী লীগকে ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শেষ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। মূল হোতা তারেকের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল।

তারেক রহমান যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল হোতা এটা তার শাশুড়িই প্রথম সন্দেহ করেছিল। তার শাশুড়ি ২০০৪ সালের আগস্টে তারেক জিয়ার গতি বিধি এবং আচার আচরণ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন নিকটাত্মীয়দের কাছে।

তারেকের শ্বশুরবাড়ি ধানমন্ডি পাঁচ নম্বর সড়কে। তার শ্বশুর প্রয়াত রিয়াল এডমিরাল মাহাবুব আলী খানের বাড়িটি এক বিঘা জমির উপর। স্বামীর মৃত্যুর পর তারেক জিয়ার শাশুড়ি ইকবালবান্দ বানুই সংসার দেখাশোনা করেন। ২০০৪ সালের আগস্টের শুরুতে শ্বশুরবাড়িতে তারেক জিয়ার যাতায়াত বেড়ে যায়। তার শ্বশুর বাড়ির সামান্য দূরত্বেই ‘সুধাসদন’। আর এই সুধাসদন ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রীর বাসভবন। শেখ হাসিনা দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যাওয়া আসা করতো এই পাঁচ নম্বর সড়ক দিয়েই। তার মানে তারেকের শ্বশুড়বাড়ির সামনে দিয়েই শেখ হাসিনা চলাফেরা করতেন।

আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তারেক শ্বশুরবাড়িতে থাকা শুরু করেন। এসময় একটি রুম নিয়ে সেখানে কম্পিউটারসহ নানা যন্ত্রপাতিও বসান। শাশুড়ি ইকবালবান্দ বানু প্রথমে এটাকে স্বাভাবিক ভাবে নিলেও পরে সন্দেহ শুরু করেন। এই সময় তারেক তার শশুর বাড়ির সামনে সিসিটিভি বসান। ঐ সিসিটিভির ফুটেজে পাওয়া শেখ হাসিনার যাতায়াতের ছবিগুলো বাছাই করে আলাদা করতে থাকেন তিনি। তারেকের শাশুড়ির এতে সন্দেহ হয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে কথাও বলেন।

২১ আগস্টের ঘটনার পর শাশুড়িই প্রথম তারেককে জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘এই ঘটনা (২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা) কি তুমি ঘটালে? তারেক জিয়ার শশুর বাড়ি সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া যায়।