সিলেটে দুর্গা পূজার জন্য প্রস্তুত ৫৯৮টি মন্ডপ

সময়ের ডাক: সিলেটে আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজা আনন্দ উৎসব মুখরতায় পালনের জন্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মন্ডপে মন্ডপে দেবী দুর্গার বর্ণিল সাজ সজ্জার শেষ মুহুর্তের আয়োজন চলছে। পূজোর উপকরণ, আলোকসজ্জা, ডেকোরেশনসহ নানান প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। পূজা আয়োজনকারী কমিটি গুলো ও পারিবারিক উদ্যোক্তারা এখন সর্বশেষ সুন্দর আয়োজনের জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করে চলেছেন। এবার সিলেট জেলায় ৫৯৮টি মন্ডপে পূজা আয়োজিত হবে। শারদীয় দুর্গা পূজা সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে গত বুধবার (৩অক্টোবর) সকাল ১০ টায় সিলেটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামানের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন- রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দনাথানন্দজী মহারাজ, সিলেট জেলা মুক্তিযুদ্ধা সংসদ-এর কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস দাশ পুরকায়স্থ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেটের সভাপতি বিরাজ চক্রবর্তী মানস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জণ চন্দ্র ঘোষ, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট’র সভাপতি অধ্যাপক রজত ভট্রাচার্য, সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, অ্যাডভোকেট প্রদীপ ভট্রাচার্য , উপ-পুলিশ কমিশনার সুজ্ঞান চাকমা, সিলেট জেলা প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ ও সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলার পূজা আয়োজনকারী নেতৃবৃন্দ। মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সন্দ্বীপ কুমার সিংহ। মতবিনিময় সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আর এই উৎসব সফল ও সার্থক করে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিলেটে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় দুর্গা পূজা উৎসব বর্ণিল আনন্দ মুখরতায় পালন করার জন্য তিনি তাঁর বক্তব্যে আহবান জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সিলেটে অতীতের মতোই শারদীয় শ্রীদুর্গা পূজা পালিত হবে। কোনো অপশক্তি আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারবে না। মতবিনিময় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিলেট জেলায় শারদীয় শ্রীদুর্গা পূজা সুষ্ঠু সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পালনের জন্য ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়। পূজা চলাকালীন সময়ে পুলিশি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর জন্য সির্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়মিত চালু রাখা ও পটকাবাজি বন্ধ রাখার সির্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের আওতাধীন সকল কার্যালয়ে ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভবনে আলোকসজ্জার সির্ধান্ত হয়। এবার জকিগঞ্জে পূজার সময় কীনব্রীজ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে করে দুই বাংলার মানুষ নির্বিঘেœ পূজো উপভোগ করতে পারে। প্রতিমা নিরঞ্জন-এর সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হবে বিশেষ ব্যবস্থা। এবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সার্বজনীন আয়োজনে ৪৮টি ও পারিবারিক আয়োজনে ১৫টি পূজো অনুষ্ঠিত হবে। সিলেট সদর উপজেলায় সার্বজনীন ৫৫টি। দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ২২ টি ও পারিবারিক ১টি। গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৫৯ টি ও পারিবারিক ৬টি। বালাগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ২৬ টি ও পারিবারিক ২টি। কানাইঘাট উপজেলায় সার্বজনীন ৩২টি। জৈন্তাপুর উপজেলায় সার্বজনীন ২২টি। বিশ্বনাথ উপজেলায় সার্বজনীন ২২টি। গোয়াইনঘাট উপজেলায় সার্বজনীন ৩৯টি। পারিবারিক ১টি। জকিগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৯৭টি। বিয়ানীবাজার উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৩৪টি, পারিবারিক ১৫টি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ২৫টি ও পারিবারিক ২টি। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৩৭টি ও পারিবারিক ২টি। ওসমানীনগর উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ২৫টি ও পারিবারিক ৯টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়াদশমী নামে পরিচিত। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষটিকে বলা হয় দেবীপক্ষ। দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যাটির নাম মহালয়া। এই দিন হিন্দুরা তর্পণ করে তাঁদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন করে। দেবীপক্ষের শেষ দিনটি হল কোজাগরী পূর্ণিমা। এই দিন হিন্দু দেবী লক্ষীর পূজা করে। দূর্গা পূজাকে সামনে রেখে সিলেট নগরীর বিভিন্ন পূজা মন্ডব গুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরীর কারিগরা। তার পাশাপাশি নগরীর মন্ডব গুলোকে বর্ণিল সাজে সাজানোর ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা যায় । প্রতি বছর এই পূজাতে নগরীতে নতুন নতুন সাজ দেখা চোখে পড়ে। সম্প্রতির নগরী সিলেটে হিন্দু হিন্দুধর্মালম্বীদের এই পূজাতে সকল ধর্মের মানুষকেই আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায়। এবার ৯ অক্টোবর মঙ্গলবার মহালয়া উদযাপন করা হবে। ১৪ অক্টোবর রবিবার মহাপঞ্চমী, ১৫ অক্টোবর সোমবার মহাষষ্ঠী, ১৬ অক্টোবর মঙ্গলবার মহাসপ্তমী, ১৭ অক্টোবর বুধবার মহাঅষ্টমী, ১৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহানবমী, ১৯ অক্টোবর শুক্রবার বিজয়া দশমী ।